
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা আবারও ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান দখল করেছে। ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পর লিওনেল মেসির দল এই অর্জন পেলেও সামনে রয়েছে এক পুরোনো পরিসংখ্যান, যেটিকে ফুটবলপ্রেমীরা অনেক সময় ‘র্যাঙ্কিং অভিশাপ’ বলে অভিহিত করেন।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারানোর পর আর্জেন্টিনার রেটিং পয়েন্ট বেড়েছে ২৬ দশমিক ৯০। ফলে তাদের মোট পয়েন্ট দাঁড়িয়েছে ১৯৭০ দশমিক ৩৭। এর মাধ্যমে স্পেনকে পেছনে ফেলে আবারও ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বরে উঠে এসেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। স্পেনের বর্তমান পয়েন্ট ১৯৬৫ দশমিক ৬১।
বিশ্বকাপ শুরুর আগে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে ছিল আর্জেন্টিনা। পরে ফ্রান্স সেই স্থান দখল করলেও সেমিফাইনালে স্পেনের কাছে ২-০ গোলে হেরে শীর্ষস্থান হারায় তারা। ফলে মেসিদের হাতেই আবার ফিরেছে র্যাঙ্কিংয়ের মুকুট।
তবে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা দলের বিশ্বকাপ না জেতার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯২ সালে ফিফা বিশ্ব র্যাঙ্কিং চালুর পর থেকে বিশ্বকাপ শুরুর সময় বা টুর্নামেন্ট চলাকালে এক নম্বরে থাকা কোনো দলই শেষ পর্যন্ত শিরোপা জিততে পারেনি।
ইতিহাস বলছে, ১৯৯৪ সালে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা জার্মানি বিদায় নেয় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে। ১৯৯৮ সালে এক নম্বর ব্রাজিল ফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে যায়। ২০০২ সালে শীর্ষে থাকা ফ্রান্স গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে পড়ে। ২০০৬ সালে ব্রাজিল, ২০১০ সালে আবারও ব্রাজিল শিরোপা জিততে ব্যর্থ হয়।
এরপর ২০১৪ সালে র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থাকা স্পেন গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয়। ২০১৮ সালে এক নম্বর জার্মানিও একই পরিণতি বরণ করে। সর্বশেষ ২০২২ বিশ্বকাপে শীর্ষে থাকা ব্রাজিল কোয়ার্টার ফাইনালে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে বিদায় নেয়, আর শিরোপা জেতে আর্জেন্টিনা।
তবে এই পরিসংখ্যানের সঙ্গে ম্যাচের ফলাফলের কোনো বৈজ্ঞানিক বা আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। এটি শুধুই একটি ঐতিহাসিক ধারা ও কাকতালীয় ঘটনা।
এখন আর্জেন্টিনার সামনে বড় প্রশ্ন—ফিফা র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষে থেকেও কি তারা এই তথাকথিত ‘অভিশাপ’ ভেঙে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়তে পারবে? নাকি আবারও অটুট থাকবে দীর্ঘদিনের এই পরিসংখ্যান? এর উত্তর মিলবে বিশ্বকাপ ফাইনালের মঞ্চেই।
আপনার মতামত লিখুন :