সম্পর্কের টানাপোড়েনে মানিকগঞ্জে প্রতিদিন ভাঙছে ৬ সংসার


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৮:২২ অপরাহ্ণ
সম্পর্কের টানাপোড়েনে মানিকগঞ্জে প্রতিদিন ভাঙছে ৬ সংসার

মানিকগঞ্জে উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে বিয়ে বিচ্ছেদের ঘটনা। জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই বছরে জেলায় বিয়ের সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি তালাকের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে, জেলায় গড়ে প্রতিদিন প্রায় ছয়টি করে সংসার ভেঙে যাচ্ছে।

জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মানিকগঞ্জ জেলায় মোট ৪ হাজার ৯৬৭টি বিয়ে নিবন্ধিত হয়। একই বছরে তালাকের সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৮৬০টি। পরের বছর ২০২৫ সালে বিয়ের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২০৩টিতে। এ বছর তালাকের সংখ্যাও বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৫৮টি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিয়ে বিচ্ছেদের এই প্রবণতা শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং পারিবারিক বন্ধন ও সামাজিক মূল্যবোধের পরিবর্তনের একটি উদ্বেগজনক চিত্র। পারিবারিক জীবনে সহনশীলতার অভাব, পারস্পরিক সম্মানের ঘাটতি, দায়িত্ববোধ কমে যাওয়া এবং স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কার্যকর যোগাযোগের অভাবকে বিচ্ছেদের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা। এ ছাড়া অর্থনৈতিক সংকট, পারিবারিক কলহ, সামাজিক পরিবর্তন এবং অল্প বয়সে বিয়েও বিচ্ছেদের হার বাড়াচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

হরিরামপুর উপজেলার চালা ইউনিয়ন পরিষদের সচিব আব্দুল বাছেদ বলেন, মানুষের মধ্যে আগের তুলনায় ধৈর্য ও সহনশীলতা কমে গেছে। ভারতীয় বাংলা সিরিয়াল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অতিরিক্ত ব্যবহার পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তিনি জানান, তাদের ইউনিয়ন পরিষদে প্রতি মাসে গড়ে ২৫ থেকে ৩০টি তালাকের আবেদন জমা পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে ছোটখাটো সমস্যাকেও বড় করে দেখে দম্পতিরা বিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

মানিকগঞ্জ জেলা কাজী সমিতির সভাপতি মো. ফজলুর রহমান বলেন, সরকারি হিসাবে বিয়ে ও তালাকের যে তথ্য পাওয়া যায়, প্রকৃত সংখ্যা তার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। কারণ জেলার সব বিয়ে ও তালাকের তথ্য জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে জমা পড়ে না। অনেক কাজি বিকল্প নিবন্ধন বই ব্যবহার করেন। তিনি দাবি করেন, সরকারি হিসাবের তুলনায় প্রকৃত বিয়ে ও তালাকের সংখ্যা প্রায় তিন গুণ হতে পারে। তার মতে, বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে নারীরাই তালাকের উদ্যোগ নিচ্ছেন এবং এর অন্যতম কারণ স্বামীদের মাদকাসক্তি।

মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের সহকারী অধ্যাপক (রাষ্ট্রবিজ্ঞান) শাহিনুর রহমান বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিস্তারের ফলে পরকীয়ার সুযোগ বেড়েছে। পাশাপাশি মাদকাসক্তি, অবিশ্বাস, সন্দেহ, ভুল বোঝাবুঝি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাও সংসার ভাঙনের বড় কারণ হয়ে উঠছে। তিনি বলেন, পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের চর্চা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সহনশীলতা বাড়ানো গেলে বিয়ে বিচ্ছেদের হার অনেকটাই কমানো সম্ভব। পরিবার ও সমাজকে এ বিষয়ে আরও সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।