ইয়ামালকে ঠেকানো নিয়ে যে বার্তা দিলেন মেসি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৫:২০ অপরাহ্ণ
ইয়ামালকে ঠেকানো নিয়ে যে বার্তা দিলেন মেসি

বিশ্বকাপের শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে আগামীকাল রাতে স্পেনের মুখোমুখি হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। আর এই ফাইনালকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দুই প্রজন্মের দুই তারকা—লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামাল। কারণ, এই ম্যাচেই প্রথমবারের মতো প্রতিপক্ষ হিসেবে মাঠে নামবেন বার্সেলোনার সাবেক কিংবদন্তি ও বর্তমান তরুণ সেনসেশন।

ফাইনালের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে মেসি ও ইয়ামালের ১৯ বছর আগের একটি ছবি। ২০০৭ সালে বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও কাতালান দৈনিক দিয়ারিও স্পোর্তের একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিটি তোলা হয়েছিল। সেই সময় মাত্র পাঁচ মাস বয়সী ইয়ামালকে একটি প্লাস্টিকের বাথটাবে বসিয়ে গোসল করিয়ে দিচ্ছেন তরুণ মেসি—এমন দৃশ্যই দেখা যায় ছবিটিতে।

পুরোনো সেই ছবি নিয়ে এবার মুখ খুলেছেন মেসি নিজেই। বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে নিউইয়র্কে আয়োজিত এক ফ্যান ইভেন্টে ইয়ামাল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সে যখন ছোট শিশু ছিল, তখন আমি তার সঙ্গে একটি ছবি তুলেছিলাম। আর এখন বিশ্বকাপের ফাইনালে আমাদের মুখোমুখি হওয়াটা সত্যিই অবিশ্বাস্য।” মেসি বলেন, “লামিনে এখন বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আমি তার সাফল্য কামনা করি। কারণ, ওর ভালো হওয়া মানে বার্সেলোনারও ভালো হওয়া।”

১৯ বছর বয়সী ইয়ামালের প্রশংসা করে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক আরও বলেন, “লামিনে অসাধারণ একজন খেলোয়াড়। আমি ওর খেলা খুব কাছ থেকে দেখেছি। কারণ, সে এমন একটি ক্লাবে খেলে, যাকে আমি ভালোবাসি এবং যার সব সময় ভালো চাই। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই সে বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম তারকা হয়ে উঠেছে। তার পুরো ক্যারিয়ার সামনে পড়ে আছে।”

তবে ফাইনালে ইয়ামালের ইতিহাস গড়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে চান মেসি। তিনি বলেন, “ওর সামনে ইতিহাস গড়ার দারুণ সুযোগ রয়েছে। তবে আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব, যেন এবার অন্তত সে সেটা করতে না পারে। আমি তার সাফল্য কামনা করি। সত্যি বলতে, ওই ছবিটা আসলেই অবিশ্বাস্য—জীবন কত অদ্ভুত!” এদিকে বিশ্বকাপ ফাইনালে নামার আগে আর্জেন্টিনার ওপর প্রত্যাশার চাপ নিয়ে কথা বলেছেন মেসি। তার মতে, চাপ নিয়ে চিন্তা না করে খেলাটাকে উপভোগ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

মেসি বলেন, “ফুটবল খেলতে, আনন্দ করতে এবং নিজেদের উজাড় করে দিতে আমরা ছোট থেকেই অভ্যস্ত। স্কুলে, রাস্তায় কিংবা ক্লাবে—আমাদের সবার শুরু হয়েছে ছোটবেলার সেই ফুটবল থেকেই।” তিনি আরও বলেন, “চাপ নিয়ে আমরা কখনো ভাবি না। মাঠে নেমে খেলাটা উপভোগ করাই আমাদের স্বাভাবিক বিষয়। আমরা প্রতিযোগিতামূলক দল, জিততে ভালোবাসি। তবে মনে রাখতে হবে, প্রতিপক্ষও জয়ের জন্যই মাঠে নামে এবং সব সময় জেতা সম্ভব নয়।”

মেসির ভাষায়, “ছোটবেলায় আমি শিখেছি—জয়ের চেয়ে হার বেশি আসে। আর সেই হারই আমাকে একজন মানুষ ও খেলোয়াড় হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করেছে।” এখন অপেক্ষা শুধু বিশ্বকাপ ফাইনালের। একদিকে অভিজ্ঞতায় ভরপুর মেসির আর্জেন্টিনা, অন্যদিকে তরুণ ইয়ামালদের স্পেন। ফুটবল ইতিহাসের পাতায় নতুন এক অধ্যায় যোগ হওয়ার অপেক্ষায় গোটা বিশ্ব।