
বগুড়ার নবগঠিত মোকামতলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী আমজানি সিদ্দিকিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা, এতিমখানা ও লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের তিন বছর মেয়াদি পরিচালনা কমিটি দায়িত্ব শেষে নবগঠিত অ্যাডহক কমিটির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব হস্তান্তর করেছে।
দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও পার আঁচলাই কেন্দ্র জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ ফরিদউদ্দিন প্রতিষ্ঠানের গত তিন বছরের পূর্ণাঙ্গ আয়-ব্যয়ের হিসাব নতুন কমিটির কাছে তুলে ধরেন।
বিদায়ী কমিটির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত তিন বছরে এলাকাবাসী, দানশীল ব্যক্তি ও শুভানুধ্যায়ীদের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠানটির মোট আয় হয়েছে ২৭ লাখ ৬৪ হাজার ৭১৩ টাকা। উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও নিয়মিত ব্যয় নির্বাহের পর ২ লাখ ৫৪ হাজার ৫৩৩ টাকা উদ্বৃত্ত রেখে নতুন কমিটির কাছে দায়িত্ব বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আমজানি সিদ্দিকিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসাটি দীর্ঘ ৫৭ বছর ধরে কোরআন শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠসংলগ্ন এ প্রতিষ্ঠান থেকে অসংখ্য শিক্ষার্থী পবিত্র কোরআনের হাফেজ হয়েছেন। প্রতিষ্ঠানের সাবেক শিক্ষার্থীদের অনেকেই দেশের বিভিন্ন মসজিদে ইমাম, খতিব এবং ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জানা যায়, ২০২৩ সালে ১২০ সদস্যবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। এতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আলহাজ আবু তালেব সরদার এবং সাধারণ সম্পাদক ছিলেন হাফেজ ফরিদ উদ্দিন ইসলাম।
দায়িত্ব পালনকালে বিদায়ী কমিটির উদ্যোগে মাদ্রাসার অবকাঠামো উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়। এর মধ্যে নতুন ভবন নির্মাণ, ওজুখানা নির্মাণ, মাঠ সংস্কার, বাউন্ডারি উন্নয়ন, বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও প্রতিষ্ঠানের অন্যান্য নিয়মিত কার্যক্রমও সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করা হয়েছে।
স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও মাদ্রাসার শুভাকাঙ্ক্ষীরা বিদায়ী কমিটির স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনার প্রশংসা করেছেন। তারা বলেন, আয়-ব্যয়ের সুস্পষ্ট হিসাব প্রদান এবং উদ্বৃত্ত অর্থ নতুন কমিটির কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে বিদায়ী কমিটি সুশাসনের একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, নতুন অ্যাডহক কমিটিও বিদায়ী কমিটির স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রেখে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নেবে এবং দ্বীনি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :