
রাজধানীতে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে ধসে পড়েছে গুলশান-শাহজাদপুর লিংক রোডের একটি অংশ। দীর্ঘ সময়ের জলাবদ্ধতা ও পানির তীব্র চাপে সড়কের নিচের মাটি সরে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটেছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকালে ঘটনাস্থলে দেখা যায়, ধসে যাওয়া অংশ ঘিরে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করায় সড়কজুড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। অফিসগামী মানুষ ও সাধারণ যাত্রীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অংশ পরিদর্শনের পর দ্রুত সংস্কারকাজ শুরু করা হবে। একই সঙ্গে জনসাধারণকে বিকল্প সড়ক ব্যবহার এবং ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে চলাচলের সময় সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে গুলশান-শাহজাদপুর লিংক রোড ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। অনেক সড়কে হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় যানবাহনের গতি কমে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল সকাল ৬টা থেকে আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামের আমবাগান এলাকায়। একই সময়ে রাজধানী ঢাকায়ও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। রোববার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৭ ঘণ্টায় ঢাকায় মোট ১১০ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সোমবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত মাত্র তিন ঘণ্টায় আরও ১৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বৃষ্টিপাতের তীব্রতা কিছুটা কমতে পারে। তবে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় ১৬ জুলাই থেকে আবারও বৃষ্টির প্রবণতা বাড়তে পারে। সংস্থাটি জানিয়েছে, পুরো জুলাই মাসজুড়েই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকবে, যদিও স্থানভেদে এর পরিমাণ ও তীব্রতায় পার্থক্য দেখা দিতে পারে।
এ অবস্থায় রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত ঝুঁকি মোকাবিলায় দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন নগরবাসী।
আপনার মতামত লিখুন :