সুরমা, কুশিয়ারাসহ তিন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা অবনতির শঙ্কা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৩, ২০২৬, ৯:২৪ অপরাহ্ণ
সুরমা, কুশিয়ারাসহ তিন নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, বন্যা অবনতির শঙ্কা

সুরমা, কুশিয়ারা ও সোমেশ্বরী নদীর চারটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সোমবার (১৩ জুলাই) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল ইসলাম শোভনের সই করা বৃষ্টিপাত, নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, পর্যবেক্ষণাধীন স্টেশনগুলোর মধ্যে সুরমা নদীর ছাতক (সুনামগঞ্জ), কুশিয়ারা নদীর মারকুলি (সুনামগঞ্জ) ও ফেঞ্চুগঞ্জ (সিলেট), এবং সোমেশ্বরী নদীর কলমাকান্দা (নেত্রকোণা) স্টেশনে পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এতে বলা হয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় সিলেট, ময়মনসিংহ ও রংপুর বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এই প্রবণতা আরও দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে যাদুকাটা ও ভুগাই-কংস নদীর পানিও বেড়েছে। সোমেশ্বরী নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোণা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার সারিগোয়াইন, যাদুকাটা, সোমেশ্বরী ও ভুগাই-কংস নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেয়ে কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি হতে পারে।

অন্যদিকে রংপুর বিভাগের তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, যদিও ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে। তবে আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও কুড়িগ্রামে তিস্তা ও দুধকুমারের পানি কিছু স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যার সৃষ্টি করতে পারে। একই সময়ে গাইবান্ধায় তিস্তা এবং কুড়িগ্রামে ধরলা নদী সতর্কসীমার কাছাকাছি পৌঁছে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ ছাড়া রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের টাঙ্গন, পুনর্ভবা, ঘাঘট, আত্রাই, আপার আত্রাই, মহানন্দা, যমুনেশ্বরী ও করতোয়া নদীর পানিও বাড়ছে। তবে আপার করতোয়ার পানি কিছুটা কমেছে। আগামী তিন দিন এসব নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।

অপরদিকে, বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার সাঙ্গু, মাতামুহুরীসহ কয়েকটি নদীর পানি আগামী ২৪ ঘণ্টায় কমতে পারে। ফলে ওইসব জেলার বন্যাকবলিত নিম্নাঞ্চলে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।