কারাবন্দী সাতক্ষীরার সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ


সাতক্ষীরা প্রতিনিধি, রমজান আলী প্রকাশের সময় : জুলাই ১৩, ২০২৬, ৮:৩১ অপরাহ্ণ
কারাবন্দী সাতক্ষীরার সাবেক এমপি লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ

সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক ও সাবেক সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে আরও একটি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (১৩ জুলাই) সাতক্ষীরার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক বিলাস মন্ডল এ আদেশ দেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সাতক্ষীরা সদর থানার এসআই অনাথ মিত্রের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই দফা শুনানি শেষে আদালত লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন।

এর আগে ২০২৫ সালের ২০ মে রাতে সাতক্ষীরা শহরের রাধানগর এলাকার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন সাবেক এই সংসদ সদস্য। এরপর বিশেষ ক্ষমতা আইন, নাশকতা ও একাধিক হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে রয়েছেন।

আদালত সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি যশোরের পিকনিক কর্নার এলাকায় সংঘটিত সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কাশেপুর গ্রামের শহিদুল ইসলাম হত্যা মামলায় লায়লা পারভীন সেঁজুতিকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট সাতক্ষীরা-১ নম্বর আমলি আদালতে নিহত শহিদুল ইসলামের ভাই ইমদাদুল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় সাতক্ষীরার তৎকালীন পুলিশ সুপার চৌধুরী মঞ্জুরুল কবিরসহ ৩২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে ২০২৪ সালের ৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানায় মামলাটি নথিভুক্ত হয়। এতে দণ্ডবিধির ৪৬৪, ৩০২, ২০১, ১৪৯ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, তার ভাই শহিদুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০১৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি রাতে পুলিশ সদস্য ও তৎকালীন আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। পরে যশোরের পিকনিক কর্নার এলাকায় তাকে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

বাদীর অভিযোগ, ওই ঘটনাকে হত্যা হিসেবে গ্রহণ না করে সে সময় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এদিকে লায়লা পারভীন সেঁজুতির আইনজীবী প্যানেলের সদস্য অ্যাডভোকেট আল মাহমুদ পলাশ বলেন, হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পরও তাকে নতুন নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, একাধিক মামলায় সাবেক এই সংসদ সদস্য ইতোমধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন।