বাবার মৃত্যুর পরও থেমে যায়নি স্বপ্ন, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল প্রিয়ন্তী দাস


সুনামগঞ্জ ক্রাইম রিপোর্টার, রুয়েব আহমেদ প্রকাশের সময় : জুলাই ১৩, ২০২৬, ৯:১৫ অপরাহ্ণ
বাবার মৃত্যুর পরও থেমে যায়নি স্বপ্ন, ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেল প্রিয়ন্তী দাস

জীবনের কঠিন বাস্তবতাকে জয় করে শিক্ষাক্ষেত্রে অনুকরণীয় সাফল্যের নজির স্থাপন করেছে সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর আব্দুল মজিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী প্রিয়ন্তী দাস। পারিবারিক প্রতিকূলতা ও আর্থিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে।

প্রিয়ন্তীর গ্রামের বাড়ি সিলেট সদর উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামে। তার বাবা স্বর্গীয় গোপাল কৃষ্ণ দাস তালুকদার দীর্ঘদিন সিলেট জেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে দলিল লেখক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মা সোমা রানী দাস তালুকদার। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে প্রিয়ন্তী তৃতীয়।

প্রায় তিন বছর আগে হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান তার বাবা। পরিবারের সেই কঠিন সময়ে প্রিয়ন্তীর পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলেও তার ফুফু দায়িত্ব নিয়ে তাকে শান্তিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর আব্দুল মজিদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণিতে ভর্তি করান। নিজের তত্ত্বাবধানে রেখে লেখাপড়ার সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করেন তিনি। পরিবারের এই দুর্দিনে ফুফুর ত্যাগ, স্নেহ ও অনুপ্রেরণাই প্রিয়ন্তীর এগিয়ে চলার সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে।

শুধু ট্যালেন্টপুলে বৃত্তিই নয়, ২০২৫ সালে শান্তিগঞ্জ উপজেলা পর্যায়ের মেধা তালিকায়ও পঞ্চম স্থান অর্জন করে নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখে প্রিয়ন্তী। বর্তমানে সে জয়কলস উজানিগাঁও রশিদিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণিতে অধ্যয়ন করছে।

প্রিয়ন্তীর স্বপ্ন একজন চিকিৎসক হয়ে সমাজের মানুষের সেবা করা এবং প্রয়াত বাবার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। সে বিশ্বাস করে, অধ্যবসায়, পরিশ্রম এবং পরিবারের ভালোবাসা থাকলে কোনো প্রতিকূলতাই সফলতার পথে বাধা হতে পারে না।

প্রিয়ন্তীর সাফল্যের খবরে আবেগাপ্লুত হয়েছেন তার কাকা গৌরাঙ্গ মোহন তালুকদার। তিনি বলেন, পরিবারের কঠিন সময়েও প্রিয়ন্তী যে সাফল্য অর্জন করেছে, তা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের। তিনি সকলের কাছে প্রিয়ন্তীর জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেন, যাতে ভবিষ্যতেও সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করে একজন মানবিক ও দক্ষ চিকিৎসক হিসেবে দেশের মানুষের সেবা করতে পারে।

প্রিয়ন্তীর এই অর্জন শুধু তার পরিবারের নয়, শান্তিগঞ্জ উপজেলার শিক্ষাঙ্গনের জন্যও গর্বের বিষয়। তার সংগ্রাম ও সাফল্যের গল্প অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।