মানবিক সহায়তায় ফিরল পরিবারের আশার আলো

প্রতারণায় হারানো ভ্যান ফিরে পেল কিশোর রাজ


মিরপুর উপজেলা প্রতিনিধি,আশিক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৬, ৩:০৫ অপরাহ্ণ
প্রতারণায় হারানো ভ্যান ফিরে পেল কিশোর রাজ

মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিল কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কিশোর রাজ। যে বয়সে তার স্কুলে যাওয়ার কথা, সেই বয়সেই অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও সংসারের খরচ চালাতে ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিল সে। কিন্তু এক প্রতারকের ফাঁদে পড়ে মুহূর্তেই হারিয়ে যায় তার একমাত্র আয়ের মাধ্যম। এতে চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে রাজের পরিবার।

তবে রাজের দুর্দশার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাত। তার সহযোগিতায় নতুন একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান পেয়ে আবারও জীবিকার পথ ফিরে পেয়েছে কিশোর রাজ।

রাজ মিরপুর উপজেলার ধুবাইল ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবা বাহাদুর মিয়া দীর্ঘদিন ধরে হৃদরোগে আক্রান্ত। অসুস্থ বাবার চিকিৎসা, পরিবারের চার সদস্যের খরচ এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধের দায়িত্ব নিতে গিয়ে রাজকে পড়াশোনা বন্ধ করতে হয়। পরে স্থানীয় একটি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কিস্তিতে একটি ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনে চালানো শুরু করে সে। ভ্যান চালানোর আয় দিয়েই চলছিল তাদের সংসার।

গত শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে রাজের জীবনে নেমে আসে বড় বিপদ। ভেড়ামারা থেকে আসা এক ব্যক্তি মালামাল পরিবহনের কথা বলে তার ভ্যান ভাড়া নেয়। সারাদিন বিভিন্ন স্থানে ঘোরার পর বিকেলে কুষ্টিয়া শহরের পাঁচ রাস্তার মোড়ে এসে ওই ব্যক্তি রাজকে একটি দোকান থেকে পান কিনে আনতে পাঠায়। সরল বিশ্বাসে দোকানে যাওয়ার পর ফিরে এসে রাজ দেখতে পায়, ওই ব্যক্তি ও তার ভ্যান—দুটিরই কোনো খোঁজ নেই।

অনেক খোঁজাখুঁজির পরও ভ্যানটির সন্ধান না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়ে রাজ ও তার পরিবার। কারণ ওই ভ্যানটিই ছিল তাদের একমাত্র আয়ের উৎস।

রাজের বাবা বাহাদুর মিয়া জানান, অসুস্থতার কারণে তিনি কোনো কাজ করতে পারেন না। সংসারের সব দায়িত্ব ছিল ছেলের ওপর। ভ্যান হারিয়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম সংকটে পড়ে যায়। রাজের মা শেফালি খাতুনও জানান, হঠাৎ করে আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছিলেন।

পরে রাজের অসহায়তার বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নজরে আসে ছাত্রদল নেতা খন্দকার তসলিম উদ্দিন নিশাতের। বর্তমানে বাবার চিকিৎসার কারণে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও তিনি রাজের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেন। তার সহযোগিতায় একটি নতুন ব্যাটারিচালিত ভ্যান কিনে দেওয়া হয় রাজকে। নতুন ভ্যান হাতে পেয়ে আবারও জীবিকা চালানোর সুযোগ পেয়েছে কিশোর রাজ, ফিরেছে তার পরিবারের স্বস্তি।