
কুষ্টিয়া জেলা শহরের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও জনসমাগমস্থলে স্থাপন করা ৬৪টি ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে অচল হয়ে রয়েছে। ফলে চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বেগ পেতে হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। তবে বাজেট সংকটের কারণে ক্যামেরাগুলো মেরামত বা পুনরায় চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন, রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সহিংস ঘটনার সময় শহরের অধিকাংশ সিসি ক্যামেরা ভাঙচুরের শিকার হয়। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে সংযোগ তার বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এবং কিছু স্থানের ক্যামেরা হারিয়েও গেছে। দীর্ঘদিন রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ক্যামেরা, সংযোগ বক্স ও অন্যান্য সরঞ্জাম অকেজো হয়ে খুঁটিতে ঝুলে আছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, সিসি ক্যামেরাগুলো সচল থাকাকালে শহরে চুরি-ছিনতাই ও অন্যান্য অপরাধের ঘটনা তুলনামূলক কম ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ক্যামেরাগুলো বন্ধ থাকায় অপরাধীরা আরও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কোনো ঘটনার পর ডিজিটাল ফুটেজ না থাকায় অপরাধীদের শনাক্ত করাও কঠিন হয়ে পড়ছে।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “সিসি ক্যামেরা অচল থাকায় শহরে চুরি-ছিনতাই বেড়েছে। ক্যামেরাগুলো সচল থাকলে প্রশাসনের নজরদারি যেমন বাড়ত, তেমনি অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করাও সম্ভব হতো।”
আরেক বাসিন্দার ভাষ্য, “শহরের মানুষের নিরাপত্তার জন্য যত দ্রুত সম্ভব সিসি ক্যামেরাগুলো চালু করা প্রয়োজন। এতে সাধারণ মানুষ অনেকটাই নিরাপদ বোধ করবেন।”
এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন বলেন, সিসি ক্যামেরাগুলো পুনরায় সচল বা প্রতিস্থাপনের জন্য উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন। পর্যাপ্ত বাজেট না থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত বা পুনঃস্থাপন সম্ভব হচ্ছে না। তবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও অপরাধ দমনের স্বার্থে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর ক্যামেরা পুনরায় চালুর বিষয়ে প্রশাসন কাজ করছে।
কুষ্টিয়াবাসীর দাবি, নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর নজরদারি ফিরিয়ে আনতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে অচল ৬৪টি সিসি ক্যামেরা সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হোক।
আপনার মতামত লিখুন :