জীবনবাজি রেখে যুদ্ধের দাবি, ৫৪ বছরেও মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি


হাদিউল আলম মোড়ল: প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৬, ৭:৩৯ অপরাহ্ণ
জীবনবাজি রেখে যুদ্ধের দাবি, ৫৪ বছরেও মেলেনি রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি

গাজীপুর সদর উপজেলার ভাওয়ালগড় ইউনিয়নের নলজানী গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলাম (৮২) দাবি করেছেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে অংশগ্রহণ করেও স্বাধীনতার ৫৪ বছর পর তিনি এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, মুক্তিযোদ্ধার সনদ, ভাতা ও সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন।

গত ১৫ জুলাই বিকেলে আলাপকালে নুরুল ইসলাম জানান, মুক্তিযুদ্ধের সময় তার বয়স ছিল ২৬ বছর। দেশমাতৃকার আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি বরমীর শাহাবুদ্দিন বিএসসি, কালু মণ্ডলের ছেলে শাহাবুদ্দিন মণ্ডলসহ আরও কয়েকজনের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে যোগ দেন বলে দাবি করেন।

নুরুল ইসলামের ভাষ্য অনুযায়ী, মুক্তিযুদ্ধের শুরুতে তারা গাড়ারন স্কুলে একত্রিত হন। পরে বরমী, বরামা ও গোদারা ঘাট হয়ে মনোহরদীর চালাকচর এলাকায় যান। সেখান থেকে তিতাস নদী পার হয়ে কুমিল্লা সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় পৌঁছান। পরে ৪২ জন মুক্তিযোদ্ধার একটি দলকে ভারতের আগরতলার প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে নেওয়া হয় বলে তিনি জানান।

তিনি আরও দাবি করেন, টঙ্গীর হাকিম মাস্টার ও শ্রীপুরের ছফুরউদ্দিনের তত্ত্বাবধানে অবস্থানের পর মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানীর উদ্যোগে তাদের ভারতের নয়াদিল্লির ওএমপি নগরের একটি সামরিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সেখানে তিনি ৩৮ দিন সামরিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন বলে জানান। প্রশিক্ষণ চলাকালে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফিরে সিলেট হয়ে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার সৈলাট এলাকায় শাহাবুদ্দিন কমান্ডারের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন বলে দাবি করেন নুরুল ইসলাম। তার ভাষ্য, একপর্যায়ে ঘোলাঘাট এলাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখযুদ্ধেও অংশ নেন এবং দেশ স্বাধীন হওয়া পর্যন্ত বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন।

নুরুল ইসলাম বলেন, “মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেও দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি থেকে বঞ্চিত রয়েছি। মুক্তিযোদ্ধার সনদ, ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাইনি।” রাজনৈতিক প্রভাব না থাকায় তিনি স্বীকৃতি পাননি বলেও অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে বরমী এলাকার শাহাবুদ্দিন বিএসসির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় পুরো বিষয়টি মনে করতে পারছেন না। তবে ছবি দেখে নুরুল ইসলামকে চেনা মনে হচ্ছে বলে জানান তিনি। নুরুল ইসলামের স্বজনরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তাদের দাবি, তদন্তে তার মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের বিষয়টি প্রমাণিত হলে দ্রুত তাকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি, সনদ ও প্রাপ্য সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হোক।

এ বিষয়ে শ্রীপুর উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার সিরাজউদ্দীন বলেন, সরকারি গেজেট তালিকায় যদি তার নাম অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে তিনি অবশ্যই সরকার নির্ধারিত মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হবেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধান হতে পারে।