
বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচটি যে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এমন এক অবিস্মরণীয় রোমাঞ্চ উপহার দেবে, তা হয়তো কেউই কল্পনা করেনি। সেমিফাইনালে হতাশাজনক বিদায়ের পর মায়ামিতে সান্ত্বনার লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। তবে সেই ম্যাচই রূপ নেয় গোলের মহোৎসবে। বুকায়ো সাকার দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকের সুবাদে ফ্রান্সকে ৬-৪ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের ব্রোঞ্জ পদক জিতে নেয় ইংল্যান্ড।
যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামি স্টেডিয়ামে প্রায় সাড়ে ৬৪ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয় ইংলিশরা। ম্যাচের মাত্র ৩ মিনিটেই ডেক্লান রাইস গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। ১৮ মিনিটে রাইসের পাস থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এজেরি কনসা। এরপর ৩৭ মিনিট এবং প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে (৪৫+১) পরপর দুটি গোল করে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন বুকায়ো সাকা। ফলে বিরতিতে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে ফ্রান্স।
দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে দিদিয়ের দেশমের দল। ৪৮ ও ৬৬ মিনিটে কিলিয়ান এমবাপে জোড়া গোল করেন এবং ৫৪ মিনিটে তারই অ্যাসিস্ট থেকে একটি গোল করেন ব্র্যাডলি বারকোলা। এতে ম্যাচে ফেরার আশা জাগে ফরাসিদের।
তবে শেষ দিকে আবারও জ্বলে ওঠেন বুকায়ো সাকা। ৮৭ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন তিনি। এর মধ্য দিয়ে ১৯৬৬ সালের ফাইনালে জিওফ হার্স্টের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে হ্যাটট্রিক করা দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েন আর্সেনালের এই তারকা।
যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে উসমান দেম্বেলে গোল করে ব্যবধান ৫-৪ করলেও ম্যাচের শেষ মুহূর্তে, ৯৮ মিনিটে জুড বেলিংহ্যাম গোল করে ইংল্যান্ডের ৬-৪ গোলের জয় নিশ্চিত করেন। এই গোলের মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে নিজের সপ্তম গোলও পূর্ণ করেন বেলিংহ্যাম, যা এক বিশ্বকাপে কোনো ইংলিশ খেলোয়াড়ের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড।
অন্যদিকে এমবাপের জোড়া গোল তাকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বকালের সর্বোচ্চ ২২ গোলের মালিক হিসেবে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। তবে ব্যক্তিগত এই অর্জনও ফ্রান্সের হতাশা কমাতে পারেনি।
বিশ্বকাপের ইতিহাসে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে এটিই সর্বোচ্চ ১০ গোলের লড়াই। একই সঙ্গে এটি প্রথমবার, যখন ফ্রান্স বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে ৬ গোল হজম করল। আর ১৯৬৬ সালের শিরোপা জয়ের পর ছেলেদের বিশ্বকাপে দেশের বাইরে এটিই ইংল্যান্ডের সেরা অর্জন হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নিল।
আপনার মতামত লিখুন :