সাবেক ভূমিমন্ত্রীর গুলশানের ফ্ল্যাটে মিলল ২১ লাখ টাকার রোলেক্স


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৬, ৪:৫৩ অপরাহ্ণ
সাবেক ভূমিমন্ত্রীর গুলশানের ফ্ল্যাটে মিলল ২১ লাখ টাকার রোলেক্স

আদালতের নির্দেশে পলাতক সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের রাজধানীর গুলশানের দুটি ফ্ল্যাটে মালামালের তালিকা (ইনভেনটরি) করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় একটি বিলাসবহুল রোলেক্স ঘড়ির ওয়ারেন্টি কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে। কার্ডের তথ্য অনুযায়ী, ১৮ ক্যারেট হোয়াইট গোল্ডের ‘Rolex Cellini Date’ (মডেল-৫০৫১৯) ঘড়িটির বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা।

দুদক সূত্র জানায়, উদ্ধার হওয়া ওয়ারেন্টি কার্ডে ঘড়িটি ২০১৯ সালের ২৪ জানুয়ারি লন্ডনের বিখ্যাত ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ‘Harrods’ থেকে কেনার তথ্য পাওয়া গেছে। কার্ডে ঘড়ির মালিক হিসেবে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর নাম, মডেল নম্বর ৫০৫১৯ এবং সিরিয়াল নম্বর ৭৩৪৫২৪৫৯ উল্লেখ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক ঘড়ির বাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, একই মডেলের ব্যবহৃত রোলেক্স ঘড়ির বর্তমান বাজারমূল্য সাধারণত ১৩ হাজার থেকে ১৭ হাজার মার্কিন ডলারের মধ্যে। অন্যদিকে নতুন বা অব্যবহৃত ঘড়ির দাম প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত হতে পারে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এর মূল্য বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২০ লাখ ৩৪ হাজার টাকা থেকে ২০ লাখ ৯৬ হাজার টাকার মধ্যে। ফলে ঘড়িটির সম্ভাব্য বাজারমূল্য প্রায় ২১ লাখ টাকা বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে রোববার (১৯ জুলাই) আদালতের নির্দেশে দুদকের কর্মকর্তারা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে গুলশানের ওই দুটি ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। সেখানে থাকা বিভিন্ন মালামাল, নথিপত্র ও অন্যান্য সামগ্রীর তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করা হয়। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, ফ্ল্যাট দুটি দুদকের নিযুক্ত রিসিভারের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ার অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়।

এর আগে আদালত যুক্তরাজ্যে তার নামে থাকা ৫১৮টি ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট ক্রোকের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ আট দেশে থাকা ৩৩০টি বাড়ি, ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট জব্দ এবং যুক্তরাষ্ট্রে তার নামে থাকা দুটি কোম্পানিতে বিনিয়োগ অবরুদ্ধ করার আদেশ দেওয়া হয়। দুদকের তথ্য অনুযায়ী, এসব সম্পদ ও বিনিয়োগের মোট মূল্য প্রায় ২ হাজার ৩২০ কোটি ৯২ লাখ টাকা। বর্তমানে এসব সম্পদের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।