৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৩, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়ে মুখ খুললেন ফিফা সভাপতি

বিশ্বকাপ ফুটবলের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ফিফা। ৩২ দল থেকে ৪৮ দলে সম্প্রসারণের পর এবার আলোচনায় এসেছে ৬৪ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ৬৪ দল নিয়ে আয়োজন করা যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনা চলছে। তবে বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর যৌথ আয়োজনে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ১৯৯৮ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বিশ্বকাপে ৩২টি দল অংশ নিয়েছিল। বিশ্বকাপের শতবর্ষ উপলক্ষে ২০৩০ সালের আসরকে আরও বড় পরিসরে আয়োজনের চিন্তা করছে ফিফা।

ঐতিহাসিক ২০৩০ বিশ্বকাপ অনুষ্ঠিত হবে তিন মহাদেশের ছয় দেশে। টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী পর্বের ম্যাচ আয়োজন করবে প্রথম বিশ্বকাপের স্বাগতিক উরুগুয়ে, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবং দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনমেবলের সদর দপ্তরের দেশ প্যারাগুয়ে। এরপর মূল প্রতিযোগিতার বাকি ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে মরক্কো, স্পেন ও পর্তুগালে।

সুইস সংবাদমাধ্যম ব্লুইনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো বলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পর ৬৪ দলের ফরম্যাট নিয়ে ফিফার সংশ্লিষ্ট কমিটিগুলো বিস্তারিত আলোচনা করবে। তার মতে, বিশ্বকাপ শুধু ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার জন্য নয়, এটি পুরো বিশ্বের ফুটবলের আসর। তাই আরও বেশি দেশকে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলে বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।

ইনফান্তিনো বলেন, ছোট ও উন্নয়নশীল দেশগুলো যদি বিশ্বকাপে খেলার বাস্তব সুযোগ পায়, তাহলে তারা ফুটবলের অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা ও খেলোয়াড় উন্নয়নে আরও বেশি বিনিয়োগে আগ্রহী হবে।

এদিকে ৪৮ দলের বিশ্বকাপ আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সফল দাবি করেছেন ফিফা সভাপতি। তবে দল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও রয়েছে। সমালোচকদের মতে, অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা বাড়লে বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের গুরুত্ব কমতে পারে এবং মূল আসরের প্রতিযোগিতার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

এর আগে বিশ্বকাপ প্রতি চার বছরের পরিবর্তে দুই বছর পরপর আয়োজনের পরিকল্পনাও করেছিল ফিফা। তবে ব্যাপক বিতর্ক ও বিভিন্ন মহলের আপত্তির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই পরিকল্পনা থেকে সরে আসে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা।