
রাজধানী ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ১৭৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত ১৭ বছরের মধ্যে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ একদিনের বৃষ্টিপাত। এর আগে ২০০৯ সালে ঢাকায় একদিনে সর্বোচ্চ ৩৩৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছিল।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ওপর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে টানা বৃষ্টিপাত হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টি স্বাভাবিক হলেও বর্তমানে এর তীব্রতা তুলনামূলক বেশি।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন স্থানে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামে ১৬০ মিলিমিটার, আমবাগানে ১৪০ মিলিমিটার, কক্সবাজারে ১১৩ মিলিমিটার এবং ফরিদপুরে ১১১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ দিন দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।
১৩ জুলাইয়ের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় এবং ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। দেশের কয়েকটি এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের আশঙ্কাও রয়েছে। দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
এদিকে ১৪ জুলাই রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের অনেক স্থানে এবং অন্যান্য বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ১৫ ও ১৬ জুলাই খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের কিছু কিছু এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
অন্যদিকে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলায় বন্যা ও পাহাড়ধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজারে ২৮ জন, চট্টগ্রামে ১৩ জন, বান্দরবানে ৬ জন, রাঙামাটিতে ৩ জন এবং মৌলভীবাজারে ১ জন মারা গেছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৩৯ জন। প্রশাসন জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
আপনার মতামত লিখুন :