নিজ কক্ষে স্বামী-স্ত্রীর লাশ, মৃত্যু নিয়ে রহস্য


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৩, ২০২৬, ৭:২২ অপরাহ্ণ
নিজ কক্ষে স্বামী-স্ত্রীর লাশ, মৃত্যু নিয়ে রহস্য

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় নিজ শয়নকক্ষ থেকে স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার সকালে উপজেলার সফাপুর ইউনিয়নের পাহাড়পুর গ্রামের নিজ বাড়ি থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাদের মৃত্যুর কারণ নিয়ে রহস্য তৈরি হয়েছে।

নিহতরা হলেন—পাহাড়পুর গ্রামের লোকমান মণ্ডল (৫২) ও তার স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম (৪৬)। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, রোববার রাতে ছেলে মুক্তার হোসেনসহ পরিবারের সদস্যরা একসঙ্গে রাতের খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান। ভোররাত সাড়ে ৩টার দিকে ছেলে মুক্তার হোসেন তার বাবা-মায়ের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। পরে বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানালে তারা এসে শয়নকক্ষের খাটের ওপর স্বামী-স্ত্রীর মরদেহ দেখতে পান।

নিহত লোকমান মণ্ডল দিনমজুরের কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তার ছেলে মুক্তার হোসেন পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দপ্তরি পদে কর্মরত এবং বাবা-মায়ের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করতেন।

স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, মুক্তার হোসেন মাদক সেবন ও অনলাইন জুয়ায় আসক্ত ছিলেন। এসব বিষয় নিয়ে পরিবারে চাপ সৃষ্টি করতেন বলে অভিযোগ করেন তারা। তাদের ধারণা, টাকার জন্য চাপ দেওয়াকে কেন্দ্র করে খাবারের সঙ্গে কীটনাশক মিশিয়ে এ ঘটনা ঘটানো হতে পারে।

প্রতিবেশীরা জানান, এর আগে প্রায় এক সপ্তাহ আগে একই ধরনের ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। সে সময় খাবারে কীটনাশক মেশানো হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হয়। বিষয়টি বুঝতে পেরে খাবার ফেলে দেওয়া হয়। পরে ওই খাবার খেয়ে বাড়ির কয়েকটি হাঁস মারা যায়। তবে ছেলে মুক্তার হোসেন জানান, ভোররাতে টয়লেটে যাওয়ার সময় বাবা-মায়ের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পান। ঘরে আলো ফেললে বাবার পা খাট থেকে ঝুলে থাকতে দেখেন। পরে ঘরে ঢুকে ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের খবর দেন।

মহাদেবপুর থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মো. জেলকদ হোসেন জানান, প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনে ধারণা করা হচ্ছে, কীটনাশক পান অথবা খাবারের সঙ্গে বিষাক্ত কিছু মেশানোর কারণে তাদের মৃত্যু হতে পারে। মহাদেবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নওগাঁ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে।