সাপেকাটা রোগীর চিকিৎসায় সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিলবে ‘অ্যান্টিভেনম’


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৩, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
সাপেকাটা রোগীর চিকিৎসায় সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মিলবে ‘অ্যান্টিভেনম’

বর্ষা মৌসুমে সাপের উপদ্রব ও সাপেকাটা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশের সব জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম (সাপের বিষের প্রতিষেধক) ইনজেকশন সরবরাহ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ফলে এখন সাপে কাটা রোগীরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গেলেই বিনামূল্যে প্রয়োজনীয় অ্যান্টিভেনম চিকিৎসা পাবেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার (সিডিসি) লাইন ডিরেক্টর মো. হালিমুর রশীদ জানান, বর্ষা শুরুর আগেই বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার ভিত্তিতে সারাদেশের জেলা হাসপাতাল ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সাপের ছোবলের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে সাপের বিচরণ বেড়ে যায় এবং সাপেকাটা রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পায়। তাই সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই আগাম এ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, বিভিন্ন হাসপাতালে অ্যান্টিভেনমের কোনো সংকট নেই। নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রাশেদুজ্জমান বলেন, তাদের হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম মজুত রয়েছে। একই তথ্য জানিয়েছেন সিলেটের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. জন্মেজয় দত্ত ও রাঙামাটির সিভিল সার্জন ডা. নূয়েন খীসাও। তারা সবাই সাপে কাটা রোগীদের ওঝা বা কবিরাজের কাছে না গিয়ে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৫০ লাখ মানুষ সাপের ছোবলের শিকার হন। এর মধ্যে ২৫ থেকে ২৭ লাখ মানুষের শরীরে বিষ প্রবেশ করে এবং প্রায় দেড় লাখ মানুষের মৃত্যু হয়। এছাড়া প্রায় ৫ লাখ মানুষ স্থায়ীভাবে অক্ষমতা বা অন্ধত্বের শিকার হন। দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ আফ্রিকার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে এ সমস্যা সবচেয়ে বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ ইউনিটের এক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৪ লাখ ৩ হাজার মানুষ সাপের কামড়ের শিকার হন। তাদের মধ্যে প্রায় ৭ হাজার ৫১১ জনের মৃত্যু হয়। আক্রান্তদের প্রায় ৯৫ শতাংশই গ্রামীণ অঞ্চলের বাসিন্দা এবং নারীদের তুলনায় পুরুষদের সাপের কামড়ের ঝুঁকি প্রায় ১ দশমিক ৪ গুণ বেশি।

গবেষকদের মতে, বর্ষা মৌসুমে বিশেষ করে সকাল ও সন্ধ্যায় এবং বন্যাপ্রবণ এলাকায় সাপের ছোবলের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে। অনেক ক্ষেত্রে প্রত্যন্ত এলাকার রোগীরা হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই প্রাণ হারান। তাই দ্রুত চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়াই জীবন বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, দেশে বর্তমানে ৯৪ প্রজাতির সাপ রয়েছে। এর মধ্যে ২৬টি বিষধর এবং বাকি ৬৮টি বিষহীন। বিষধর সাপের ছোবল প্রাণঘাতী হতে পারে, তবে সময়মতো অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা গেলে অধিকাংশ রোগীকেই সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার পাশাপাশি সাপের কামড়ের ঘটনায় কোনো ধরনের কুসংস্কারে বিশ্বাস না করে দ্রুত নিকটস্থ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।