
বিশ্ববাজারে সোনার দাম আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রায় দ্বিগুণ হয়ে প্রতি আউন্স ৮ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে জার্মানির ডয়চে ব্যাংক। ব্যাংকটির বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ধারাবাহিক সোনা কেনা, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং নিরাপদ বিনিয়োগের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে মূল্যবান এই ধাতুর দাম আরও বাড়তে পারে।
ডয়চে ব্যাংকের ২৭ এপ্রিল প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন, রাশিয়া, ভারত ও তুরস্কসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সোনার মজুত দ্রুত বাড়াচ্ছে। এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৩১ সালের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৮ হাজার ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিশ্ববাজারে সোনার দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ২০২০ সালে প্রতি আউন্স সোনার দাম ছিল প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ ডলার। এরপর নানা বৈশ্বিক সংকট, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বিনিয়োগকারীদের আগ্রহের কারণে দাম বাড়তে বাড়তে বর্তমানে তা ৪ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি অবস্থানে রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য সুদের হার কমে যাওয়া, মার্কিন ডলারের দুর্বলতা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর বড় পরিসরে সোনা কেনা এবং সোনার বার ও মুদ্রার বাড়তি চাহিদা মূল্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ হতে পারে। পাশাপাশি ক্রিপ্টোকারেন্সি খাতের অনেক বিনিয়োগকারী সম্পদে বৈচিত্র্য আনতে সোনার দিকে ঝুঁকছেন, যা বাজারে চাহিদা আরও বাড়াচ্ছে।
ডয়চে ব্যাংক রিসার্চের মূল্যবান ধাতু বিশ্লেষক মাইকেল শুয়েহ বলেন, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সোনার বাজারে বড় ও দীর্ঘমেয়াদি ক্রেতা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ফলে সাধারণ গহনা ক্রেতাদের মতো দাম-নির্ভর ক্রেতাদের প্রভাব তুলনামূলকভাবে কমে গেছে। তার মতে, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সোনার শক্তিশালী অবস্থানের পেছনে এটি অন্যতম কারণ।
তবে সব বিশ্লেষক এই পূর্বাভাসের সঙ্গে একমত নন। ল্যান্ডেসব্যাংক বাডেন-ভুর্টেমবের্গের বিশ্লেষক ফ্রাঙ্ক শ্যালেনবার্গার মনে করেন, সোনার মৌলিক ভিত্তি শক্তিশালী হলেও আগামী পাঁচ বছরে দাম দ্বিগুণ হওয়ার মতো পর্যাপ্ত কারণ বর্তমানে স্পষ্ট নয়। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে গোল্ড ইটিএফে বিনিয়োগ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার গতি কিছুটা কমেছে।
ডিজেড ব্যাংকের গবেষণা বিশ্লেষক টমাস কুল্পও সোনাকে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে দেখলেও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি মনে করেন, আগামী ১২ মাসের মধ্যে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ডলারে পৌঁছাতে পারে, তবে বাজারে বড় ধরনের ওঠানামার সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট, মুদ্রাস্ফীতি ও বৈশ্বিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনা দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। তবে বিনিয়োগকারীদের উচিত ঝুঁকি বিবেচনা করে ভারসাম্যপূর্ণ কৌশলে সোনায় বিনিয়োগ করা।
আপনার মতামত লিখুন :