শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড প্রসিকিউশনের হাতে তদন্ত প্রতিবেদন, শেখ হাসিনাসহ আসামি ৪১


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ড প্রসিকিউশনের হাতে তদন্ত প্রতিবেদন, শেখ হাসিনাসহ আসামি ৪১

২০১৩ সালে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন। প্রতিবেদনে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদসহ মোট ৪১ জনকে আসামি করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা প্রতিবেদনটি প্রসিকিউশনের কাছে জমা দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

তিনি জানান, তদন্ত সংস্থা এরই মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রসিকিউশনের কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আগামী ২১ জুলাই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। এ বিষয়ে মামলার অগ্রগতি নিয়ে পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং করা হবে বলেও জানান তিনি।

মামলার আসামিদের তালিকায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ছাড়াও রয়েছেন একাত্তর টিভির সাবেক প্রধান সম্পাদক মোজাম্মেল হক বাবু, বেসরকারি টেলিভিশনটির সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ফারজানা রুপা এবং সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর। এছাড়া তৎকালীন পুলিশ ও র‌্যাব প্রধান এবং ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকেও আসামি করা হয়েছে।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তে এখন পর্যন্ত শুধু রাজধানী ঢাকাতেই ৩২ জন নিহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্ত কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ না হওয়ায় প্রকৃত নিহতের সংখ্যা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।

এদিকে শাপলা চত্বরের ঘটনায় মামলার অগ্রগতি জানতে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের শীর্ষ নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল রোববার সকালে চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে যায়। দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির আব্দুল হামিদের নেতৃত্বে ১০ থেকে ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হক, মুফতি হারুন ইজহার, মুফতি মীর ইদ্রিসসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৫ মে ১৩ দফা দাবিতে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। দিনভর উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে সমাবেশস্থল খালি করা হয়। ওই অভিযানে বহু মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়।