আড়াই বছরে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রে মারা গেছেন ১৪০ জন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৬, ১১:৫৩ পূর্বাহ্ণ
আড়াই বছরে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রে মারা গেছেন ১৪০ জন

মালয়েশিয়ায় কঠোর অভিবাসন অভিযান শুরুর পর দেশটির অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতে অন্তত ১৪০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ফোর্টিফাই রাইটস। আটককেন্দ্রগুলোর অতিরিক্ত ভিড়, চিকিৎসাসেবার ঘাটতি ও অমানবিক পরিবেশকে এসব মৃত্যুর অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করে সংস্থাটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

সম্প্রতি মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফোর্টিফাই রাইটস জানায়, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দেশটির অভিবাসন আটককেন্দ্রে মোট ৪৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৩৯৩ জন পুরুষ, ৬০ জন নারী এবং ১২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক।

সংস্থাটির তথ্যমতে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে আটক অবস্থায় ১০৯ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ৩১ জনের মৃত্যুর তথ্য পার্লামেন্টে জানানো হয়েছে। ফলে ২০২৪ সালে বড় পরিসরে অভিবাসন অভিযান শুরুর পর থেকে আটককেন্দ্রে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪০ জনে।

ফোর্টিফাই রাইটসের দাবি, ২০২৪ সালে সরকার অনথিভুক্ত অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যাপক অভিযান শুরু করার পর গ্রেফতারের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ২০২৫ সালে গ্রেফতারের সংখ্যা গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

বর্তমানে মালয়েশিয়ার অভিবাসন আটককেন্দ্রগুলোতে ২২ হাজার ৪৫ জন আটক রয়েছেন, যেখানে সরকারি ধারণক্ষমতা ২১ হাজার ৫৩০ জন। ফলে এসব কেন্দ্রে অতিরিক্ত চাপ ও মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আটককেন্দ্রে মৃত্যুর কারণ হিসেবে সেপসিস, লেপ্টোস্পাইরোসিস ও মেনিনজাইটিসের মতো রোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ফোর্টিফাই রাইটস বলছে, অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ, দূষিত পানি, দুর্বল স্যানিটেশন ব্যবস্থা, অতিরিক্ত ভিড় এবং সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে এসব রোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সাল থেকে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন অভিবাসন আটককেন্দ্র থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েক ডজন ব্যক্তির সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকেই অভিযোগ করেছেন, অসুস্থ হওয়ার পরও পর্যাপ্ত চিকিৎসা দেওয়া হতো না এবং চিকিৎসা চাইলে কখনো কখনো শাস্তির মুখে পড়তে হতো।

বাংলাদেশি এক সাবেক আটক ব্যক্তি ছদ্মনাম ‘হোসেন’ বলেন, অনেক বন্দি অসুস্থ হলেও ভয় ও হয়রানির কারণে বিষয়টি জানাতে পারতেন না। অনেক ক্ষেত্রে অবস্থা গুরুতর হওয়ার পরই হাসপাতালে নেওয়া হতো।

ফোর্টিফাই রাইটসের জ্যেষ্ঠ পরিচালক পিটার বাউকার্ট বলেন, আটককেন্দ্রগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি অপ্রয়োজনীয় মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, হেফাজতে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তির মানবিক পরিবেশ ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সংস্থাটি মালয়েশিয়া সরকারের প্রতি অতীতের মৃত্যুর বিষয়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।