পাকিস্তানের সঙ্গে বড় পরিসরে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চাইছে কুয়েত


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৬:১৬ অপরাহ্ণ
পাকিস্তানের সঙ্গে বড় পরিসরে প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে চাইছে কুয়েত

জ্বালানি সহযোগিতা ও বিনিয়োগের বিনিময়ে পাকিস্তানের সঙ্গে একটি সম্প্রসারিত প্রতিরক্ষা চুক্তি করতে আগ্রহী কুয়েত। এ বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্স। তবে আলোচনাটি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

শনিবার (১৮ জুলাই) রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যকার চলমান আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাঁচটি সূত্র জানিয়েছে, সম্ভাব্য এ চুক্তির আওতায় নিরাপত্তা সহযোগিতা আরও বিস্তৃত করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এ উদ্যোগকে জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর হামলার পর সৌদি আরবের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাকিস্তান সতর্কবার্তা দেয়। দেশটি জানায়, সৌদি আরবের ওপর যেকোনো হামলাকে পাকিস্তানের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ঘটনার পর মধ্যপ্রাচ্যে পাকিস্তানের সামরিক ভূমিকা নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

কুয়েত এর আগে বেশ কয়েকবার আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে হামলার মুখে পড়েছে। ফলে দেশটি নিজেদের নিরাপত্তা জোরদারে নতুন সহযোগিতা খুঁজছে। পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি হলে ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার বিরোধে কুয়েতের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বর্তমানে ২০২৩ সাল থেকে কুয়েত ও পাকিস্তানের মধ্যে সামরিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ মহড়াভিত্তিক একটি সীমিত প্রতিরক্ষা সহযোগিতা রয়েছে। তবে কুয়েত এখন সৌদি আরবের সঙ্গে পাকিস্তানের বিদ্যমান প্রতিরক্ষা সম্পর্কের মতো আরও শক্তিশালী নিরাপত্তা সহযোগিতা চাচ্ছে। পাকিস্তান সরকারের এক কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানায়, সম্ভাব্য সহযোগিতার মধ্যে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন, যুদ্ধবিমান, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং অন্যান্য সামরিক সুবিধার বিষয় অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। তবে বড় পরিসরে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান এখনো স্পষ্ট নয়।

পাকিস্তানি এক কর্মকর্তা বলেন, “এ মুহূর্তে যুদ্ধের জন্য সেনা মোতায়েনের বিষয়টি আমরা বিবেচনা করছি না এবং করতে পারি না।” তিনি জানান, কুয়েতের সঙ্গে সহযোগিতা মূলত নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বৃদ্ধির দিকেই কেন্দ্রীভূত। এদিকে কুয়েত পাকিস্তানে জ্বালানি সংরক্ষণাগার স্থাপন, তেল সরবরাহ বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে। দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ডিজেল সরবরাহ চুক্তির ভিত্তিতে এ সহযোগিতা আরও বিস্তৃত হতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়ছে। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন আঞ্চলিক প্রতিরক্ষা উদ্যোগ নিয়েও আলোচনা চলছে। একইভাবে বাহরাইন ও জর্ডানও পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতায় আগ্রহ দেখিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতাকে কেন্দ্র করে কুয়েত-পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন মাত্রা পেতে পারে। তবে আঞ্চলিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।