ধর্ষণের শিকার শিশুকে চিকিৎসা না দেওয়ায় দুই হাসপাতালকে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৭:০৩ অপরাহ্ণ
ধর্ষণের শিকার শিশুকে চিকিৎসা না দেওয়ায় দুই হাসপাতালকে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা

ধর্ষণের শিকার চার বছর বয়সী এক শিশুকে চিকিৎসা না দেওয়ায় ভারতের দুটি বেসরকারি হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের তীব্র ভর্ৎসনা করেছেন দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। আদালত মন্তব্য করেছে, শিশুটি দরিদ্র পরিবারের ছিল বলেই তাকে চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ ঘটনায় শুনানি করেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের উদ্দেশে আদালত বলেন, দায়িত্ব পালন না করলে নামের আগে ‘ডাক্তার’ শব্দ ব্যবহার করা উচিত নয়।

ঘটনাটি চলতি বছরের ১৬ মার্চ ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতিবেশী এক ব্যক্তি চকলেট কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে চার বছর বয়সী শিশুটিকে বাড়ি থেকে নিয়ে যায়। পরে পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে তাকে রক্তাক্ত ও অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন।

পরিবারের অভিযোগ, উদ্ধারের পর শিশুটি তখনো জীবিত ছিল। দ্রুত চিকিৎসার জন্য তাকে প্রথমে দুটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শিশুটিকে ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে গাজিয়াবাদ জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শিশুটির বাবা দাবি করেন, উদ্ধারের পর প্রায় দুই ঘণ্টা তার মেয়ে জীবিত ছিল। সময়মতো চিকিৎসা দেওয়া হলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হতে পারত।

ঘটনার তদন্তে সুপ্রিম কোর্টের গঠিত বিশেষ তদন্ত দল (এসআইটি) হাসপাতালগুলোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা জানায়। শুনানিতে আদালত বলেন, কোনো হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজনীয় সুবিধা না থাকলেও চিকিৎসকদের দায়িত্ব ছিল শিশুটিকে দ্রুত অন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা। কিন্তু তারা সেই মানবিক দায়িত্ব পালন করেননি।

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট ওই দুই হাসপাতালকে শিশুটির পরিবারকে স্বেচ্ছায় আর্থিক সহায়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। নির্দেশ অমান্য করলে অতিরিক্ত জরিমানাসহ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় পুলিশের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটির পরিবার থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ প্রথমে তাদের অভিযোগ নিতে গড়িমসি করে এবং দুর্ব্যবহার করে। পরে জনমতের চাপে ১৭ মার্চ মামলা দায়ের করা হয় এবং ১৮ মার্চ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আদালত আরও উল্লেখ করেছে, প্রাথমিক এফআইআরে শিশু যৌন নির্যাতন প্রতিরোধ আইন (পকসো) ও ধর্ষণের ধারা যুক্ত করা হয়নি। হাসপাতাল ও পুলিশের এমন উদাসীনতাকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও অমানবিক বলে মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট।