বন্যা নিয়ে উত্তরের ৫ জেলার জন্য দুঃসংবাদ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ১২:৪৬ অপরাহ্ণ
বন্যা নিয়ে উত্তরের ৫ জেলার জন্য দুঃসংবাদ

উত্তরাঞ্চলের রংপুর বিভাগের পাঁচ জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি আগামী কয়েক দিনে আবারও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জুলাই) প্রকাশিত বন্যা পূর্বাভাসে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় এসব নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

পাউবোর সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর সংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও পানি উঠে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ দিনে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়ার কিছু এলাকায় সতর্কসীমার কাছাকাছি প্রবাহিত হতে পারে। এতে নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে সিলেট ও সুনামগঞ্জেও বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সতর্কতা জারি রয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে বলে জানিয়েছে পাউবো। বর্তমানে কুশিয়ারা নদীর পানি কয়েকটি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৩৪ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ১৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পেলেও সুরমার পানি কিছুটা কমেছে। তবে আগামী তিন দিনে উভয় নদীর পানি আবারও বাড়তে পারে। ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

অন্যদিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদীর পানিও বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাউবোর বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্র জানিয়েছে, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও সংলগ্ন এলাকায় থাকা লঘুচাপটি দুর্বল হয়ে বর্তমানে উত্তর ওডিশা, বিহার ও গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এলাকায় অবস্থান করছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ ১১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে টেকনাফে। পাশাপাশি ভারতের মেঘালয়ের বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হওয়ায় এর প্রভাব দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানির প্রবাহে পড়তে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে।