
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতি হিসেবে বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা বৃদ্ধি, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে নতুন কর্মপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সরকার। বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আওতাধীন এনহ্যানসড ইন্টিগ্রেটেড ফ্রেমওয়ার্ক (ইআইএফ)-এর তৃতীয় পর্যায়ের কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্ট (সিপিডি) বাস্তবায়নের মাধ্যমে এসব লক্ষ্য অর্জনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোববার (১৯ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টের ভ্যালিডেশন কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি, অন্যদিকে রপ্তানি খাতে নন-ট্যারিফ বাধা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড (কমপ্লায়েন্স) নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
বাণিজ্য সচিব জানান, ইআইএফের আগের পর্যায়গুলোর সুপারিশগুলো গুরুত্ব দিয়ে নতুন কান্ট্রি প্রোগ্রাম ডকুমেন্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে মোট ১২টি কার্যক্রম রাখা হয়েছে, যা বাংলাদেশের বাণিজ্য সক্ষমতা উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
তিনি বলেন, শুধু নীতিমালা বা গবেষণা প্রতিবেদন তৈরি করলেই হবে না, সেগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মাঠপর্যায়ে এসব সংস্কারের সুফল পৌঁছে দিতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্য সহজীকরণ, উদারীকরণ, আইন ও বিধিমালার আধুনিকায়ন এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা হবে।
কর্মশালায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন বলেন, ইআইএফ কর্মসূচির মাধ্যমে এলডিসিভুক্ত দেশগুলোকে বাণিজ্য সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা দেওয়া হয়। যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেনসহ বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী দেশ এ কর্মসূচিতে অর্থায়ন করে থাকে।
তিনি জানান, বাংলাদেশ ইআইএফের আওতায় এর আগে দুটি পর্যায়ের কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করেছে। প্রথম পর্যায়ের কার্যক্রম ২০০৯ সালে শুরু হয়ে ২০১৫ সালে শেষ হয়। দ্বিতীয় পর্যায় শুরু হয় ২০১৬ সালে, যা শেষ হয়েছে ২০২৪ সালে। এখন তৃতীয় পর্যায়ের কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে, যার আওতায় পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
ইআইএফের পরামর্শক মো. হাফিজুর রহমান জানান, নতুন সিপিডি তৈরির সময় দেশের বিদ্যমান নীতি, কৌশল ও পূর্ববর্তী গবেষণার সুপারিশ বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৫২টি প্রকল্প চিহ্নিত করা হলেও পরবর্তীতে অগ্রাধিকার বিবেচনায় তা ১২টি কার্যক্রমে সীমিত করা হয়েছে। এসব কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি, বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার।
কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা ও বিভিন্ন অংশীজনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ইআইএফের তৃতীয় পর্যায়ের এই উদ্যোগ এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখা এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
আপনার মতামত লিখুন :