শঙ্খ নদীর চরে বন্যার ক্ষতচিহ্ন, বালুর নিচে চাপা পড়েছে ৮১ কোটি টাকার কৃষিস্বপ্ন


চট্টগ্রাম প্রতিনিধি, মারুফ প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ণ
শঙ্খ নদীর চরে বন্যার ক্ষতচিহ্ন, বালুর নিচে চাপা পড়েছে ৮১ কোটি টাকার কৃষিস্বপ্ন

চট্টগ্রামের শঙ্খ নদীর চরাঞ্চলে সাম্প্রতিক বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের ভয়াবহ প্রভাবে কৃষকদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নদীর স্রোতে উর্বর কৃষিজমির ওপর বালুর পুরু স্তর জমে যাওয়ায় বিস্তীর্ণ এলাকা চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, সবজি ও ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮১ কোটি টাকা।

গত ৫ জুলাই থেকে টানা আট দিনের ভারী বৃষ্টি এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শঙ্খ নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এতে চন্দনাইশ উপজেলার ধোপাছড়ি, কাঞ্চননগর, ছৈয়দাবাদ, বরমা ও বৈলতলী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ কৃষিজমি প্লাবিত হয়। বন্যার পানি সরে গেলেও জমির ওপর বালুর আস্তরণ পড়ে থাকায় কৃষকরা নতুন করে চাষাবাদ শুরু করতে পারছেন না। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, শুধু চন্দনাইশ উপজেলাতেই ৯১০ হেক্টর সবজিক্ষেত, আউস ধান ও আমনের বীজতলা সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অনেকেই এনজিও ও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে মৌসুমি ফসলের আবাদ করেছিলেন। কিন্তু বন্যার কারণে সেই ফসল নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা এখন ঋণ পরিশোধ ও সংসারের ব্যয় মেটানো নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের আশঙ্কা, শঙ্খ চরাঞ্চল থেকে চট্টগ্রাম নগরীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে নিয়মিত সবজি সরবরাহ করা হয়। এবারের ক্ষয়ক্ষতির কারণে উৎপাদন কমে গেলে বাজারে সবজির সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে এবং দামও বেড়ে যেতে পারে।

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল। এ সময় উপপরিচালক আপ্রু মারমা, অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) রঘুনাথ নাহা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আজাদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শন শেষে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, বালুর আস্তরণে ক্ষতিগ্রস্ত জমি পুনরায় চাষাবাদের উপযোগী করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বীজ, সার ও আর্থিক প্রণোদনার আওতায় এনে দ্রুত পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সময়মতো সরকারি সহায়তা না পৌঁছালে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ঘুরে দাঁড়ানো কঠিন হবে। পাশাপাশি উৎপাদন কমে গেলে দেশের সবজির বাজারেও এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।