
মিষ্টি কুমড়া আমাদের দেশের অন্যতম পরিচিত ও পুষ্টিকর সবজি। সহজলভ্য এই সবজিতে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসহ নানা ধরনের প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত খাদ্যতালিকায় মিষ্টি কুমড়া রাখলে শরীরের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
যে পুষ্টি উপাদান রয়েছে
যুক্তরাষ্ট্রের এগ্রিকালচার’স ফুড ডেটা সেন্ট্রালের তথ্য অনুযায়ী, এক কাপ (প্রায় ২৪৫ গ্রাম) সেদ্ধ বা রান্না করা মিষ্টি কুমড়ায় রয়েছে প্রায় ৪৯ ক্যালরি, ১.৭৬ গ্রাম প্রোটিন, ১২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ২.৭ গ্রাম খাদ্যআঁশ এবং ০.১৭ গ্রাম চর্বি। এতে কোলেস্টেরল থাকে না।
এছাড়া মিষ্টি কুমড়ায় রয়েছে ভিটামিন এ, সি ও ই, রিবোফ্লাভিন, থায়ামিন, ভিটামিন বি–৬, ফলেট, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন, ফসফরাস, কপার, ম্যাঙ্গানিজ, নিয়াসিন ও প্যান্টোথেনিক অ্যাসিডসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
স্বাস্থ্যে যেসব উপকার করে
মিষ্টি কুমড়া বিটা-ক্যারোটিনের একটি সমৃদ্ধ উৎস, যা শরীরে ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। এটি চোখের সুস্থতা বজায় রাখতে এবং ভিটামিন এ-এর ঘাটতিজনিত সমস্যা প্রতিরোধে সহায়ক।
এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের কোষকে ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতি থেকে সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে। এ কারণে নিয়মিত মিষ্টি কুমড়া খাওয়া কিছু ধরনের ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পটাশিয়ামসমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে মিষ্টি কুমড়া খেলে রক্তনালির সুস্থতা বজায় রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
মিষ্টি কুমড়ায় থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে ম্যাগনেশিয়াম ও পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
খাদ্যআঁশে সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি হজমশক্তি উন্নত করতে, অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমাতে সহায়ক।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে নিয়মিত পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি কুমড়া খাওয়া শরীরের সার্বিক সুস্থতা বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এটি কোনো রোগের একক চিকিৎসা নয়; গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যায় অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আপনার মতামত লিখুন :