বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে খেলনা ও টাকা নিয়ে পালাল শিশু


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৮:১৮ অপরাহ্ণ
বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে খেলনা ও টাকা নিয়ে পালাল শিশু

মাদারীপুরে বাবা-মায়ের সঙ্গে অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যাওয়া আট বছর বয়সী এক শিশুকে একদিন পর উদ্ধার করেছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় শিশুটির সঙ্গে থাকা নগদ ৬৪ হাজার ১২০ টাকা ও প্রিয় খেলনাও উদ্ধার করা হয়।

শুক্রবার (১৮ জুলাই) ভোররাতে পুলিশের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে উদ্ধার হওয়া অর্থসহ শিশুটিকে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার হওয়া শিশুটির নাম মাহিম জমাদ্দার (৮)। সে মাদারীপুর সদর উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বাহাদুরপুর গ্রামের সুমন জমাদ্দারের ছেলে।

জানা যায়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) মাদারীপুরের শিরখাড়া এলাকা থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাচ্ছিলেন না। পরে বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) রাত ১০টার দিকে মাদারীপুর সদর হাসপাতালের বহির্বিভাগে একা ঘোরাফেরা করতে দেখে সেখানে দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য অন্তর মিয়া।

বিষয়টি তিনি হাসপাতাল আনসার ক্যাম্প ইনচার্জ মোখলেসুর রহমানকে জানান। পরে আনসার সদস্যরা শিশুটির সঙ্গে কথা বলে তাকে নিরাপদ হেফাজতে নেন। এ সময় শিশুটির ব্যাগ তল্লাশি করে খেলনার পাশাপাশি নগদ ৬৪ হাজার ১২০ টাকা পাওয়া যায়।

পরে বিষয়টি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মনির হোসেনকে জানানো হয়। তিনি জেলা হাসপাতালে গিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহযোগিতায় শিশুটির বাবা ও চাচার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। একই সঙ্গে বিষয়টি মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকেও (ওসি) অবহিত করা হয়। শিশুটির বাবা সুমন জমাদ্দার বলেন, ছেলেকে হারিয়ে পরিবারের সবাই দুশ্চিন্তায় ছিল। আনসার সদস্যরা উদ্ধার না করলে হয়তো সে আরও দূরে কোথাও হারিয়ে যেতে পারত। সন্তানকে ফিরে পেয়ে পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে।

উপজেলা আনসার-ভিডিপি কর্মকর্তা মনির হোসেন বলেন, শিশুটিকে তার সঙ্গে থাকা অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রীসহ পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সন্তানদের প্রতি বাবা-মাকে আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। মাদারীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ জানান, রাতেই পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুটিকে নিরাপদে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।