
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বর্ণি বাওড়ে সময়ের সঙ্গে বদলেছে অনেক কিছু, বদলেছে মাঝিও; তবে থেমে নেই খেয়া নৌকায় মানুষের পারাপার। আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার যুগেও স্থানীয় মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা হয়ে রয়েছে এই খেয়া নৌকা।
বর্ণি ইউনিয়নের বাসিন্দা বাকপ্রতিবন্ধী মো. রসুল খান দীর্ঘদিন ধরে খেয়া নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন। প্রতিদিন বর্ণি বাওড়ে যাত্রী পারাপার করে তিনি গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় করেন। প্রতিজন যাত্রীর কাছ থেকে নেওয়া হয় ১০ টাকা ভাড়া। সপ্তাহে দুই দিন কুশলী হাট বসায় ওই দিনগুলোতে যাত্রীর সংখ্যা বাড়ে, ফলে আয়ও কিছুটা বৃদ্ধি পায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই নৌপথে কালাম শেখ, হাশেম ও কায়সারসহ অনেক মাঝি খেয়া পরিচালনা করেছেন। বর্তমানে একমাত্র নিয়মিত মাঝি হিসেবে রসুল খানই যাত্রী পারাপারের দায়িত্ব পালন করছেন।
মধুমতী নদীর গতিপথ পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট বর্ণি বাওড় শুধু একটি জলাশয় নয়, এটি বর্ণি ও কুশলী ইউনিয়নের মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। দেশীয় মাছের সমৃদ্ধ উৎস এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কারণে বাওড়টি এলাকার ঐতিহ্যের অন্যতম অংশ হয়ে আছে।
প্রযুক্তির অগ্রগতির মাঝেও বর্ণি বাওড়ের খেয়া নৌকা ধরে রেখেছে পুরোনো দিনের ঐতিহ্য। আর সেই ঐতিহ্যকে টিকিয়ে রাখতে প্রতিদিন বৈঠা হাতে জীবিকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন মাঝি মো. রসুল খান।
আপনার মতামত লিখুন :