বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জন


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৭:৪১ অপরাহ্ণ
বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জন

দেশের সাত জেলায় চলমান বন্যা, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ি ঢল ও পাহাড়ধসের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৯ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে এসব দুর্যোগে ৫৬টি উপজেলা, ৩৭৪টি ইউনিয়ন এবং চারটি পৌরসভা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ৭৩টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে ২৯৮ জন আশ্রয় নিয়েছেন।

শনিবার (১৮ জুলাই) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, বন্যা ও পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান, কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে কক্সবাজার জেলায়। সেখানে স্থানীয় ১৯ জন এবং রোহিঙ্গা ১৩ জনসহ মোট ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬ জন, বান্দরবানে সাতজন, রাঙামাটিতে তিনজন এবং মৌলভীবাজারে একজন মারা গেছেন। এ ঘটনায় মোট ৪০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে খাগড়াছড়িতে একজন, বান্দরবানে দুজন, কক্সবাজারে ২৫ জন এবং চট্টগ্রামে ১২ জন রয়েছেন।

দুর্যোগকবলিত মানুষের সহায়তায় সরকার বিভিন্ন ধরনের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোতে নগদ অর্থ, চাল, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য, গোখাদ্য, ঢেউটিন এবং গৃহ নির্মাণ অনুদান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে এসব সহায়তার বড় অংশ ইতোমধ্যে বিতরণ করা হয়েছে।

এর মধ্যে কক্সবাজার জেলায় ৪০ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৪৫০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল ঢেউটিন, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৭৫ লাখ টাকা নগদ অর্থ, এক হাজার ২০০ মেট্রিক টন চাল, এক হাজার বান্ডিল টিন, শুকনো খাবার, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য।

বান্দরবান জেলায় দেওয়া হয়েছে ২০ লাখ টাকা নগদ অর্থ, ৪০০ মেট্রিক টন চাল, শিশু খাদ্য ও গোখাদ্য। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকেও অতিরিক্ত সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলায়ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য ত্রাণ সহায়তা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তারা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।