প্রাইম ইউনিভার্সিটির শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা চেয়ে অভিযোগ

টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ


স্টাফ রিপোর্টার, নাসিম খান প্রকাশের সময় : জুলাই ১৮, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ

ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বিদ্যুৎ কুমার দত্তের বিরুদ্ধে টাকার জন্য স্ত্রীকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁর স্ত্রী শিউলি রানী রায় (৩২) বর্তমানে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

শনিবার দুপুরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিউলি রানী রায় ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।

শিউলি রানী রায় কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার নিরোধ কুমার রায়ের মেয়ে। তাঁর স্বামী বিদ্যুৎ কুমার দত্ত (৪০) কুষ্টিয়ার আমলাপাড়ার বাসিন্দা এবং ঢাকার প্রাইম ইউনিভার্সিটির একজন শিক্ষক। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত বছর আগে তাঁদের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাঁরা রাজধানীর মিরপুরের মাজার রোড এলাকায় বসবাস করে আসছেন।

শিউলি রানী রায়ের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শাশুড়ি ও ননদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। পরবর্তীতে স্বামীর বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য কলহ আরও বাড়ে। তাঁর দাবি, বিদেশে যাওয়ার জন্য স্বামী নিয়মিত তাঁর কাছে টাকা চাইতেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো।

শিউলির ভাষ্য, গত ১২ জুলাই রাতে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিদ্যুৎ কুমার দত্ত রুটি বেলার বেলন দিয়ে তাঁকে মারধর করেন। এতে তাঁর মাথা, মুখমণ্ডল, হাত, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে এবং ডান চোখেও গুরুতর জখম হয়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর তাঁকে বাবার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে মোটরসাইকেলে তুলে কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন তাঁর স্বামী। পথে আশুলিয়ার নবীনগর গলফ ক্লাব এলাকায় মোটরসাইকেল থেকে তাঁকে ফেলে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।

শিউলির ভাই শুভ রায় অভিযোগ করেন, তাঁর বোনকে হত্যার উদ্দেশ্যে মারধরের পর মোটরসাইকেল থেকে ফেলে দেওয়া হয়েছিল, যাতে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।

তিনি জানান, এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগে ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ অন্তর্ভুক্ত না থাকায় আদালতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

অভিযোগের বিষয়ে বিদ্যুৎ কুমার দত্তের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনার তদন্ত শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এ প্রতিবেদনে বিদ্যুৎ কুমার দত্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অভিযোগকারী পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলমান এবং অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।