প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৮ বছরের শিশু আরহামের হৃদয়স্পর্শী আবেদন


কক্সবাজার জেলাা ক্রাইম রিপোর্টার, মোহাম্মদ নোমান  প্রকাশের সময় : জুলাই ১৩, ২০২৬, ৫:০৮ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ৮ বছরের শিশু আরহামের হৃদয়স্পর্শী আবেদন

কক্সবাজারের দ্বীপ উপজেলা কুতুবদিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট ও দুর্ভোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেগঘন আবেদন জানিয়েছে ৮ বছরের শিশু আরহাম। দ্বীপবাসীর নিরাপদ যোগাযোগের জন্য কক্সবাজার-কুতুবদিয়া সেতু নির্মাণ এবং উপকূল রক্ষায় টেকসই পাকা বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে সে।

আরহাম কুতুবদিয়ার সন্তান এবং কক্সবাজার হলি চাইল্ড স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু ওমর হাসেমী।

সম্প্রতি লেখা আবেদনপত্রে আরহাম কুতুবদিয়ার মানুষের প্রতিদিনের কষ্টের চিত্র তুলে ধরে জানায়, দ্বীপ হওয়ায় এখানকার মানুষকে মূল ভূখণ্ডে যাতায়াতের জন্য নৌকার ওপর নির্ভর করতে হয়। বৈরী আবহাওয়া, ঝড়-বৃষ্টি কিংবা রাতে নৌযান চলাচল বন্ধ থাকলে রোগী, গর্ভবতী নারী ও জরুরি প্রয়োজনে থাকা মানুষদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

চিঠিতে সে উল্লেখ করে, অনেক সময় প্রসব বেদনায় থাকা মায়েদের সময়মতো হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হয় না। অসুস্থ শিশু ও সাধারণ রোগীদের চিকিৎসার জন্যও নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। পাশাপাশি ঝড়-বৃষ্টির সময় নৌযান দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে।

আরহাম আরও লিখেছে, জোয়ারের পানিতে অনেক রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় স্কুল, বাজার ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে সে আবেদন জানায়, “আমাদের একটা ব্রিজ আর পাকা বেড়িবাঁধ খুব দরকার। ব্রিজ হলে আমরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারবো, মা-বোনেরা সহজে ডাক্তারের কাছে যেতে পারবেন। কেউ আর পানিতে ডুবে মরবে না।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কক্সবাজার-কুতুবদিয়া সেতু নির্মাণ দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি। সেতু নির্মিত হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন খাতে উন্নতির পাশাপাশি নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত হবে। একই সঙ্গে একটি টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ হলে জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনের ঝুঁকি কমবে।

শিশু আরহামের এই আবেদন ইতোমধ্যে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনার সৃষ্টি করেছে। কুতুবদিয়াবাসীর প্রত্যাশা, তার এই মানবিক আবেদন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে এবং দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।