সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ৩০০ টাকা ছুঁইছুঁই


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ৪:৩৭ অপরাহ্ণ
সবজির দামে সেঞ্চুরি, কাঁচা মরিচের কেজি ৩০০ টাকা ছুঁইছুঁই

একটানা অতিবৃষ্টি ও সাম্প্রতিক বন্যার প্রভাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সবজির খেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ার পাশাপাশি বাজারে সরবরাহও হ্রাস পাওয়ায় রাজধানীসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে। অধিকাংশ সবজিই এখন ১০০ টাকার আশপাশে বিক্রি হচ্ছে, আর কাঁচা মরিচের দাম পৌঁছে গেছে ৩০০ টাকার কাছাকাছি। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাজধানীর ইব্রাহিমপুর বাজার, শেওড়াপাড়া, বিজয় সরণীর কলমিলতা বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বাজারে করলা বিক্রি হচ্ছে ১০০ থেকে ১২০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ও ঝিঙা ১০০ টাকা, পটল ৮০ টাকা, চিচিঙ্গা ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শসা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি দরে। এক সপ্তাহ আগেও ৬০ টাকায় বিক্রি হওয়া লাউ এখন ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গাজর ১৬০ টাকা এবং কাঁকরোল ৯০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। তুলনামূলকভাবে কম দামে রয়েছে পেঁপে, যার কেজি ৪০ টাকা।

সবচেয়ে বেশি অস্থিরতা দেখা গেছে কাঁচা মরিচের বাজারে। বর্তমানে বাজারভেদে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ২৪০ থেকে ২৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এর দাম ৩০০ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। রাজধানীর পূর্ব শেওড়াপাড়ায় ভ্যানে সবজি বিক্রি করা হাসিব জানান, তিনি প্রতি পোয়া কাঁচা মরিচ ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন, যা কেজিতে ২৮০ টাকা হয়। একই এলাকার আরেক বিক্রেতা প্রতি পোয়া ৬০ টাকা হিসেবে কাঁচা মরিচ বিক্রি করছেন, অর্থাৎ প্রতি কেজির দাম ২৪০ টাকা।

বাজারে আসা এক ক্রেতা বলেন, কয়েক দিন আগেও যেসব সবজি ৬০ থেকে ৭০ টাকায় কিনেছেন, এখন সেগুলোর দাম প্রায় ১০০ টাকায় পৌঁছে গেছে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, টানা বৃষ্টির কারণে অনেক এলাকার সবজিক্ষেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। ফলে উৎপাদন কমেছে এবং খেত থেকে সবজি সংগ্রহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারের সবজি ব্যবসায়ী আবুল হোসেন বলেন, অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বাজারদরে।

ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং বাজারে সরবরাহ বাড়তে শুরু করলে সবজির দামও ধীরে ধীরে কমবে। তবে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক দিন বাজারে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আরও বাড়তে পারে।