
দক্ষতাভিত্তিক ও কর্মমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু না করলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীকে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি বলেন, প্রচলিত গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে দেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। সময়োপযোগী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববাজারের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।
বৃহস্পতিবার রাতে দিনাজপুর সংগীত ডিগ্রি কলেজের আয়োজনে শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা ও মতবিনিময় সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় দিনাজপুরের বিভিন্ন কলেজের অধ্যক্ষ, শিক্ষক এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপাচার্য বলেন, সরকারের কোনো আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব অর্থায়নে দেশের প্রায় ৭০ শতাংশ উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার আনা গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা সম্ভব হবে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।
তিনি বলেন, প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠাচ্ছেন। তবে বিদেশে যাওয়ার আগে যদি তাদের আরবি, চীনা কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষ করে পাঠানো যায়, তাহলে রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। চীনা ভাষা শেখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, বিশ্বের প্রায় সব দেশেই চীনের ব্যবসায়িক সম্প্রসারণ ঘটছে। ফলে চীনা ভাষায় দক্ষ জনশক্তির আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
অধ্যাপক আমানুল্লাহ আরও বলেন, একসময় মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীনের মানুষ বাংলাদেশে বিভিন্ন বিষয়ে অভিজ্ঞতা নিতে আসতেন। বর্তমানে আমাদের শিক্ষার্থীদেরই উন্নত প্রযুক্তি ও আধুনিক কৃষি, মৎস্য এবং শিল্প ব্যবস্থাপনা শেখার জন্য ওইসব দেশে যেতে হচ্ছে। এ বাস্তবতায় শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার বিকল্প নেই।
তিনি শিক্ষাঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও গুরুত্বারোপ করে বলেন, শিক্ষকদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং সংস্কার কার্যক্রম বাস্তবায়নের মাধ্যমে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষার মানোন্নয়নে বাজেটের বড় একটি অংশ বরাদ্দ দিয়েছে। সময়োপযোগী শিক্ষা নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা রাষ্ট্র ও সমাজের যৌথ দায়িত্ব।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দিনাজপুর সংগীত ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. নওশের ওয়ান। অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে কলেজের শিক্ষার্থীরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।
আপনার মতামত লিখুন :