
দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে হামের উপসর্গ ও নিশ্চিত হাম মিলিয়ে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮০৩ জনে। বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মারা গেছে ৭০৮ জন। আর নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ৯৫ জনের। সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮০৩ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে বয়সভিত্তিক মৃত্যুর তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে কোন বয়সী মানুষ বা কোন বয়সী শিশুরা হামের উপসর্গ নিয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে বা বেশি মারা যাচ্ছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না।
রোগতত্ত্ববিদদের মতে, হাম সব বয়সী মানুষের হতে পারে। তবে শিশুদের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। কোনো এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে হামের উপসর্গ নিয়ে হওয়া মৃত্যুগুলোকে সাধারণত হামে মৃত্যু হিসেবেই বিবেচনা করা হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ৯০৪ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৩৫২ জনে। এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় দেশে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ১৩৩ জনের শরীরে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত মোট ১৪ হাজার ৮৪১ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৮ জন রোগী। এর মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৯৯ হাজার ২৯৪ জন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি। তবে হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ছয় শিশুর মধ্যে চারজন ঢাকা বিভাগের এবং দুইজন সিলেট বিভাগের বাসিন্দা।
এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে চলতি বছরের মে পর্যন্ত ছয় মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম বা হামের উপসর্গে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। এই সময়ে বিশ্বের অন্য কোনো দেশে এত বেশি সংখ্যক হাম রোগী পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম প্রতিরোধে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
আপনার মতামত লিখুন :