
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার বহুল আলোচিত শিশু তাজমিনা আক্তার (৬) হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি ও শিশুটির বাবা আবু তাহেরকে প্রায় এক দশক পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকার পর শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে ঢাকার আশুলিয়া থানার বাইপাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পীরগঞ্জ উপজেলার মদনখালী ইউনিয়নের কাফ্রিখাল গ্রামের আশকর আলীর ছেলে আবু তাহের পারিবারিক বিরোধের জেরে ২০০৭ সালের ১৩ ডিসেম্বর নিজ মেয়ে তাজমিনা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। পরে পাশের শ্যামপুর গ্রামের একটি আখক্ষেত থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহত শিশুর মা সালেহা বেগম ২০০৭ সালের ১৪ ডিসেম্বর পীরগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় করা হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০১৬ সালের অক্টোবরে আদালত আসামি আবু তাহেরকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। তবে রায়ের সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। এরপর থেকেই তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হকের নির্দেশনায় উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে ঢাকার আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে আবু তাহের সেখানে ছদ্মবেশে অবস্থান করছিলেন এবং রিকশা-ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছিলেন।
পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজমুল হক বলেন, দীর্ঘদিন পলাতক থাকা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু তাহেরকে গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। শিশু তাজমিনা হত্যার ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকা আসামির গ্রেপ্তারে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আদালতের রায় কার্যকরের দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :