বগুড়ায় জমি বিরোধে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম, দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক


জেলা প্রতিনিধি বগুড়া, তাহেরা জামান লিপি প্রকাশের সময় : জুলাই ২০, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
বগুড়ায় জমি বিরোধে একই পরিবারের চারজনকে কুপিয়ে জখম, দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক

বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে জমিজমা-সংক্রান্ত পূর্ব বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দু’জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সোমবার (২০ জুলাই) এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১৮ জুলাই) দীর্ঘদিন ধরে চলা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালায়।

অভিযোগ অনুযায়ী, হামলার প্রথম শিকার হন রিনা খাতুন ও তার বোন। তারা শ্বশুরবাড়ি থেকে বাবার বাড়ি যাওয়ার পথে প্রতিপক্ষের বাড়ির আঙিনায় পৌঁছালে তাদের পথরোধ করা হয়। এ সময় হামলাকারীরা রিনা খাতুনকে মারধর করে এবং গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এমনকি তার আগে অপারেশন করা পেটেও লাথি মারা হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ সময় ছোট বোন সুমাইয়া আক্তার (সুমি) এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়। পরে মো. দুলাল ও মো. মিনু হামলায় অংশ নিয়ে পরিবারের পুরুষ সদস্যসহ অন্যদের ওপর আক্রমণ চালান বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে চারজন রক্তাক্ত জখম হন।

আহতদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের প্রথমে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর দু’জনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আহত অপর দুইজন বর্তমানে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পর জগন্নাথপুর এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে মোকামতলা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। পুনরায় সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।