বস্তাবন্দি মেয়ের লাশ মোটরসাইকেলে নিয়ে শহরে ঘোরে বাবা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২০, ২০২৬, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ
বস্তাবন্দি মেয়ের লাশ মোটরসাইকেলে নিয়ে শহরে ঘোরে বাবা

খুলনায় আলোচিত কিশোরী নির্জনা হত্যা মামলায় আদালতে জবানবন্দি দিয়ে নিজের মেয়েকে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন বাবা আকাশ। রোববার (১৯ জুলাই) খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১ এর বিচারক মো. আসাদুর জামানের আদালতে তিনি স্বেচ্ছায় এ জবানবন্দি দেন। পরে আদালতের নির্দেশে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলনা সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আমিনুল ইসলাম জানান, শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার একটি দোকান থেকে র‍্যাব অভিযান চালিয়ে আকাশকে গ্রেপ্তার করে। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেন। পরে আদালতে উপস্থিত হয়ে স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দেন তিনি।

পুলিশ ও আদালতে দেওয়া জবানবন্দির বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত ৮ জুলাই সকালে নির্জনা স্বামীর সঙ্গে চলে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে ফিরিয়ে আনেন। পরে বিকেলে মা আরিফা ইয়াসমিন সীমার সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে নির্জনা মায়ের ওপর আক্রমণ করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাবা আকাশ কাঠের একটি চলা দিয়ে তাকে আঘাত করেন।

আকাশের দাবি, ওই আঘাত দুর্ঘটনাবশত নির্জনার মাথায় লাগে। পরে তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তিনি মারা যান। এরপর মরদেহ গোপন করতে নির্জনাকে কালো লুঙ্গি দিয়ে বেঁধে প্লাস্টিকের বস্তায় ভরা হয়। পরে মোটরসাইকেলে করে মরদেহ নিয়ে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরির পর খুলনার প্রান্তিকা আবাসিক এলাকার একটি নির্জন সড়কে ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার পর আকাশ ও তার স্ত্রী বাড়িতে ফিরে রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন। পরে রাতে কান্নাকাটি করে এবং পরদিন সকালে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান। খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, বস্তাবন্দি অবস্থায় রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধারের পর প্রথমদিকে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পিবিআই ও সিআইডির মতো বিশেষায়িত সংস্থাও প্রাথমিকভাবে পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতের ছবি প্রকাশের পর তার পরিচয় শনাক্ত হয়।

তিনি আরও জানান, তদন্তের শুরুতে নিহতের মা-বাবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে প্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার ছয় দিন পর হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এরপর ১০ দিন পর ডুমুরিয়া থেকে আকাশকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে গত ১০ জুলাই নিহত নির্জনার মা আরিফা ইয়াসমিন সীমাও আদালতে জবানবন্দি দিয়ে মেয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেন। বর্তমানে মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।