আর্জেন্টিনার হারে অভিমানে ভেড়ামারায় সমর্থকের আত্মহত্যা


ভেড়ামারা উপজেলা প্রতিনিধি, ইখলাস হোসেন প্রকাশের সময় : জুলাই ২০, ২০২৬, ৬:১৪ অপরাহ্ণ
আর্জেন্টিনার হারে অভিমানে ভেড়ামারায় সমর্থকের আত্মহত্যা

বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে প্রিয় দল আর্জেন্টিনার পরাজয় সহ্য করতে না পেরে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় এক আর্জেন্টিনা সমর্থক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। নিহত সুমন হোসেন (৩০) পেশায় একজন ভ্যানচালক ছিলেন।

রোববার (২০ জুলাই) রাতে আর্জেন্টিনা ও স্পেনের মধ্যকার ফাইনাল ম্যাচ দেখার পর সোমবার ভোরে উপজেলার বাহিরচর ইউনিয়নের ১৬ দাগ চাষী ক্লাব এলাকায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নিজ শয়নকক্ষের বাঁশের আড়ায় ঝুলন্ত অবস্থায় সুমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পারিবারিক সূত্র ও পুলিশ জানায়, সুমন ছিলেন আর্জেন্টিনা ফুটবল দলের দীর্ঘদিনের সমর্থক। ফাইনাল ম্যাচ উপলক্ষে রোববার রাতে তিনি নিজ উদ্যোগে খিচুড়ি ও মাংস রান্না করে বন্ধু ও প্রতিবেশীদের নিয়ে খেলা দেখার আয়োজন করেন। ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর হতাশ হয়ে তিনি বাড়ি ফিরে নিজ কক্ষে চলে যান।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাসায় ফিরে সুমন কিছুক্ষণ মোবাইল দেখছিলেন। পরে তার স্ত্রী জেমি খাতুন ঘুমানোর জন্য বললে তিনি নিজ কক্ষে থাকেন। ভোরে জেমি খাতুন ঘুম থেকে উঠে দেখতে পান, সুমন লাইলনের দড়িতে ঝুলছেন। তার চিৎকারে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন। পরে চাচা শ্বশুর রবজেল ও প্রতিবেশী আব্দুল জলিল তাকে উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সুমনের বন্ধু রিপন আলী বলেন, “সে আর্জেন্টিনার খুব বড় ভক্ত ছিল। খেলা দেখার জন্য সবাইকে খাওয়ানোর আয়োজন করেছিল। একসঙ্গে বসে খেলা দেখেছি। তার এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।” নিহতের বাবা আফজাল হোসেন বলেন, “ছেলে খেলা দেখে বাড়িতে আসার পর আমি মাঠে চলে যাই। পরে ভাই রবজেল এসে মৃত্যুর খবর দেয়। দুটি ছোট সন্তান রেখে সে চলে গেল, এখন তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তায় আছি।”

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল জলিল বলেন, “আর্জেন্টিনার হার সুমন মেনে নিতে পারেনি। অভিমান থেকেই সে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে হচ্ছে।” ভেড়ামারা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ জাহেদুর রহমান জানান, সুমন আর্জেন্টিনার সমর্থক ছিলেন বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হতাশা থেকেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।