কুষ্টিয়ায় রাইস মিলের বিষাক্ত ধোঁয়া ও ছাইয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ঝুঁকিতে কৃষি


কুষ্টিয়া ক্রাইম রিপোর্টার, শাহরিয়ার প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ১১:০৪ পূর্বাহ্ণ
কুষ্টিয়ায় রাইস মিলের বিষাক্ত ধোঁয়া ও ছাইয়ে বিপর্যস্ত জনজীবন, ঝুঁকিতে কৃষি

দেশের অন্যতম প্রধান চালের মোকাম কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকায় রাইস মিলের অনিয়ন্ত্রিত কালো ধোঁয়া ও উড়ন্ত ছাইয়ে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিদিন অটো রাইস মিল ও হাসকিং মিলের চিমনি থেকে নির্গত ধোঁয়া ও ছাই শুধু জনজীবনকেই বিপর্যস্ত করছে না, একই সঙ্গে পরিবেশ ও কৃষি খাতেও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

খাজানগর এলাকায় রয়েছে অন্তত ৭০টি অটো রাইস মিল এবং শতাধিক হাসকিং মিল। এসব মিলের উঁচু চিমনি থেকে দিন-রাত নির্গত হচ্ছে ঘন কালো ধোঁয়া ও সূক্ষ্ম ছাই। বাতাসের সঙ্গে ছড়িয়ে পড়া এসব ছাই ঘরের আসবাবপত্র, বিছানা, উঠান এমনকি খাবার ও পানির পাত্রেও জমছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, খাবার ও পানি ঢেকে না রাখলে অল্প সময়ের মধ্যেই তা ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

বাসিন্দারা জানান, ধোঁয়া ও ছাইয়ের কারণে বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা বেশি ভুগছেন। এলাকায় অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালাপোড়া ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগের সমস্যা বেড়েছে। রাস্তায় চলাচলের সময় অনেককেই নাক-মুখ ঢেকে চলতে হচ্ছে।

শুধু মানুষের স্বাস্থ্য নয়, রাইস মিলের ছাইয়ের প্রভাব পড়ছে কৃষিতেও। স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, বাড়ির আশপাশের সবজি ক্ষেত ও ফসলের গাছে ছাইয়ের মোটা স্তর জমে যাচ্ছে। লাউ, বেগুন, ধনিয়াপাতা ও অন্যান্য সবজি গাছের পাতায় ছাই জমে সালোকসংশ্লেষণ ব্যাহত হচ্ছে। এতে ফলন কমে যাচ্ছে এবং উৎপাদিত ফসলও নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন কৃষকরা।

এ ছাড়া রাইস মিলের ছাই ও বর্জ্য ড্রেন, খাল ও আশপাশের জলাশয়ে মিশে পরিবেশ দূষণ করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনেক মিলেই ধোঁয়া ও ছাই নিয়ন্ত্রণে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের সুযোগ থাকলেও অতিরিক্ত খরচের কারণে তা এড়িয়ে যাচ্ছেন মালিকরা। পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন ধরে দূষণ চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ তাদের।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. এমদাদুল হক জানান, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে তদারকি বাড়ানো হয়েছে। ইতোমধ্যে ১০ সদস্যের একটি তদন্ত ও পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা প্রতিটি অটো রাইস মিল পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দেবেন। প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিয়ম অমান্যকারী মিলগুলোর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, শুধু তদন্ত বা আশ্বাস নয়, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি। বাসযোগ্য পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় রাইস মিলগুলোতে আধুনিক ফিল্টার ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।