তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজন নারীকে গণপিটুনিতে হত্যা।


স্টাফ রিপোর্টার, জি এম সাগর হোসেন প্রকাশের সময় : জুলাই ২০, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার, সন্দেহভাজন নারীকে গণপিটুনিতে হত্যা।

সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা ইউনিয়নের কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামে তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় জনতার গণপিটুনিতে এক সন্দেহভাজন নারীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) রাতে পুলিশ উভয়ের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

নিহত ফারজানা সুলতানা (৯) কাজলা মাঝেরপাড়া গ্রামের লতিফ উদ্দিনের মেয়ে। সে কাজলা কাশিবাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ফারজানা প্রতিদিনের মতো বিদ্যালয়ে যায়। বিদ্যালয় ছুটি হওয়ার পরও সে বাড়িতে ফিরে না আসায় পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। দীর্ঘ সময়েও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি কালিগঞ্জ থানাকে জানানো হয়।

খবর পেয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলামের নির্দেশে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অনুসন্ধান শুরু করে। একপর্যায়ে সন্ধ্যা প্রায় ৭টার দিকে বিদ্যালয়ের সামনে ঝালমুড়ি বিক্রি করা সুমাইয়া (২৬), স্বামী আমিরুলের বসতঘরের ভেতর থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্ষুব্ধ জনতা সন্দেহভাজন সুমাইয়াকে গণপিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উভয়ের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোসহ প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে।

স্থানীয়দের একটি অংশের ধারণা, শিশুটির কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখনো পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ দেওয়া হয়নি।

কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শহিদুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।” পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।