বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারি নিয়ে তদন্তে ফিফা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২১, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
বিশ্বকাপ ফাইনালের মারামারি নিয়ে তদন্তে ফিফা

বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষে স্পেন ও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মধ্যে ঘটে যাওয়া উত্তপ্ত সংঘর্ষের ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ম্যাচ-পরবর্তী শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একজন তদন্তকারী নিয়োগ করেছে ফিফা ডিসিপ্লিনারি কমিটি।

ফিফার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে খেলোয়াড়দের নিষেধাজ্ঞা, জরিমানা কিংবা অন্যান্য শাস্তিমূলক পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

এক বিবৃতিতে ফিফা জানিয়েছে, স্পেন-আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপ ফাইনালের ম্যাচ রিপোর্ট পর্যালোচনা করে ফিফা ডিসিপ্লিনারি কোডের ৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তদন্ত কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। ম্যাচ শেষে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোতে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগ তদন্তের জন্য একজন তদন্তকারী নিয়োগ করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের ফাইনালে অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের একমাত্র গোলে ১-০ ব্যবধানে জয় পায় স্পেন। শেষ বাঁশি বাজার পরপরই স্প্যানিশ খেলোয়াড়রা শিরোপা উদযাপনে মেতে ওঠেন। অন্যদিকে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের আশা পূরণ না হওয়ায় হতাশায় ডুবে যায় আর্জেন্টিনা।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কার প্রতিবেদনে বলা হয়, ম্যাচ শেষে স্পেনের গাভি আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসের কাছে গিয়ে কিছু মন্তব্য করেন। তবে ঠিক কী বলা হয়েছিল তা জানা যায়নি। ওই মন্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে পারেদেস গাভিকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর দুই দলের খেলোয়াড় ও সাপোর্ট স্টাফরা মাঠে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বেশ কিছুক্ষণ ধরে চলে ধাক্কাধাক্কি ও বাকবিতণ্ডা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি মাঠে প্রবেশ করেন এবং পারেদেসকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন।

ঘটনার পর ম্যাচ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে রেফারি লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান। বিশ্বকাপ ফাইনাল শেষ হওয়ার পর কোনো খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানোর ঘটনা অত্যন্ত বিরল বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।

এখন ফিফার তদন্ত প্রতিবেদন ঘিরেই অপেক্ষায় রয়েছে ফুটবল বিশ্ব। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।