নতুন বার্তা দিলেন ‘তেলাপোকা পার্টি’র প্রধান অভিজিৎ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ
নতুন বার্তা দিলেন ‘তেলাপোকা পার্টি’র প্রধান অভিজিৎ

ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ঘিরে গড়ে ওঠা তরুণদের আন্দোলনের মুখে চাপের মুখে পড়েছে বিজেপি সরকার। নতুন প্রজন্মের প্ল্যাটফর্ম ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র নেতৃত্বে টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের পর কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন বলে দাবি করেছে সংগঠনটি। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বেশ কয়েকটি দাবিও মেনে নেওয়া হয়েছে। আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়ে তরুণদের মধ্যে আলোচনায় আসা ককরোচ জনতা পার্টির প্রধান অভিজিৎ দিপকে জানিয়েছেন, এটি কেবল শুরু, সামনে আরও দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে।

রোববার (২৬ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ বলেন, আন্দোলনের ৩৭ দিন ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবে এখন কিছুটা স্বস্তির সময় এসেছে। তিনি বলেন, আগে প্রতিদিন কী হবে, কীভাবে আন্দোলন এগিয়ে নেওয়া হবে—এসব চিন্তা করতে হতো। এখন কিছুটা নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ বিভিন্ন দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টি দেশজুড়ে আন্দোলন গড়ে তোলে। টানা বিক্ষোভের মাধ্যমে সংগঠনটি বিপুলসংখ্যক তরুণকে একত্রিত করে।

জানা গেছে, ভারতের প্রধান বিচারপতি তরুণদের নিয়ে ‘তেলাপোকা’ শব্দ ব্যবহার করে মন্তব্য করার পর সেটিকে প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে গত মে মাসে ককরোচ জনতা পার্টি প্রতিষ্ঠা করেন অভিজিৎ দিপকে। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি দেশটির নতুন প্রজন্মের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।

রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির সমর্থকদের উপস্থিতিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়ে ওঠে। প্রশ্নপত্র ফাঁস, চাকরির অনিশ্চয়তা এবং তরুণদের হতাশার বিষয়গুলো সামনে এনে তারা সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়।

আন্দোলনের ৩৭ দিনের মাথায় শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন বলে জানায় সংগঠনটি। একই সঙ্গে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলন প্রত্যাহার করে। ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দিপকে আন্দোলনে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যারা ৩৭ দিন ধরে যন্তর মন্তরে অবস্থান করেছেন, তাদের অবদান তিনি গভীরভাবে সম্মান করেন।

অসুস্থতার কারণে আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে সবার সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে না পারায় দুঃখ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি সমালোচকদেরও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তাদের প্রশ্ন ও পরামর্শ থেকেই অনেক ভুল সংশোধনের সুযোগ পেয়েছেন। অভিজিৎ দিপকে বলেন, “এটি কেবল শুরু। ককরোচ জনতা পার্টির সামনে আরও দীর্ঘ পথ বাকি রয়েছে।”