পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৫, ২০২৬, ৪:৪২ অপরাহ্ণ
পদত্যাগপত্রে যা লিখেছেন ভারতের শিক্ষামন্ত্রী

নিট-ইউজি ভর্তি পরীক্ষায় অনিয়মের ঘটনায় চলমান রাজনৈতিক চাপ ও আন্দোলনের মুখে ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেছেন। শনিবার (২৫ জুলাই) তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। পরে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও পদত্যাগপত্রটি প্রকাশ করেন।

পদত্যাগপত্রে ধর্মেন্দ্র প্রধান বলেন, নিট-ইউজি পরীক্ষায় অনিয়ম প্রকাশ্যে আসার পর সরকার দ্রুত তদন্তের দায়িত্ব কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার হাতে দেয়, পরীক্ষা বাতিল করে পুনঃপরীক্ষার আয়োজন করে এবং আগামী বছর থেকে কম্পিউটারভিত্তিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

তিনি দাবি করেন, ঘটনার শুরু থেকেই তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাননি। বরং পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের কারণে যেন কোনো মেধাবী শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ ক্ষতিগ্রস্ত না হয় এবং কোনো শিক্ষার্থীর প্রতি অবিচার না ঘটে, সে লক্ষ্যেই কাজ করেছেন।

ধর্মেন্দ্র প্রধান জানান, ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীর পুনঃপরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার, জেলা প্রশাসন, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের সম্মিলিত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বলেন, ১৬ জুলাই প্রকাশিত পরীক্ষার ফলাফলে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের বহু শিক্ষার্থীর সাফল্য তাকে আশাবাদী করেছে।

তবে পদত্যাগপত্রে তিনি অভিযোগ করেন, কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তি শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন এবং বিভিন্নভাবে পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছেন। গত কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, এটি তার ব্যক্তিগত মর্যাদার বিষয় নয়; বরং দেশের স্বার্থ এবং শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ যেন কোনো দেশবিরোধী শক্তি নিতে না পারে, জাতীয় ঐক্য অক্ষুণ্ন থাকে এবং শিক্ষার্থীরা আইনি জটিলতা বা আন্দোলনে জড়িয়ে না পড়ে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারে—এসব বিষয় বিবেচনা করেই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।

পদত্যাগপত্রের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, মন্ত্রিসভার সহকর্মী, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং নিজের সহযোদ্ধাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান ধর্মেন্দ্র প্রধান। পাশাপাশি তিনি বলেন, দেশসেবাই তার জীবনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং ভবিষ্যতেও দেশের জনগণ, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের কল্যাণে কাজ করে যাবেন।