সুন্দরবন রক্ষায় ৪ হাজার কোটি টাকা দেবে জাতিসংঘ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ৭:৩৭ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন রক্ষায় ৪ হাজার কোটি টাকা দেবে জাতিসংঘ

সুন্দরবন সংরক্ষণ এবং এর ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবন-জীবিকার উন্নয়নে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে জাতিসংঘ। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সুন্দরবন রক্ষায় ৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার উন্নয়নে আরও ২৬০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করবে সংস্থাটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৯৪৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।

শনিবার (২৫ জুলাই) বাগেরহাটের মোংলা উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত ‘সুন্দরবন ও উপকূলীয় জীবিকার সুরক্ষা’ শীর্ষক দিনব্যাপী নাগরিক সংলাপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।

‘পিপলস ম্যানডেট: ম্যানিফেস্টো টু অ্যাকশন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিবেশ ও জলবায়ুবিষয়ক নাগরিক সংগঠন ‘ধরিত্রী রক্ষায় আমরা’সহ কয়েকটি সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে এ সংলাপের আয়োজন করা হয়। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জীবন-জীবিকা, পরিবেশ এবং সুন্দরবনের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা করেন খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান, সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলীমসহ বিভিন্ন পর্যায়ের বিশিষ্টজন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবন শুধু বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সম্পদ নয়, এটি দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকার অন্যতম ভিত্তি। তাই এ বন সংরক্ষণে সরকারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, জাতিসংঘের এই বিনিয়োগের মাধ্যমে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, পরিবেশগত সুরক্ষা এবং বননির্ভর মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণের বিকল্প জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংলাপে বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উপকূলীয় অঞ্চল ক্রমেই ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সুন্দরবনের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বননির্ভর মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি, টেকসই ও সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কোনো বিকল্প নেই।

ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম সবাইকে সুন্দরবন রক্ষায় সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এই বিশ্ব ঐতিহ্যকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ করা সম্ভব।