
গর্ভাবস্থা একজন নারীর জীবনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময় খাদ্যাভ্যাস নিয়ে নানা প্রশ্ন ও বিভ্রান্তি দেখা দেয়। এর মধ্যে অন্যতম হলো—গর্ভবতী মায়েদের পেঁপে খাওয়া উচিত কি না। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ বিষয়ে প্রচলিত ধারণার কিছুটা সত্যতা থাকলেও সব ধরনের পেঁপে সমান ঝুঁকিপূর্ণ নয়। মূল পার্থক্যটি নির্ভর করে পেঁপে কতটা পাকা তার ওপর।
পাকা পেঁপে সাধারণত নিরাপদ:
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে পুরোপুরি পাকা পেঁপে খাওয়া সাধারণত গর্ভাবস্থায় নিরাপদ। পাকা পেঁপেতে ভিটামিন সি, ভিটামিন এ, ফোলেট, পটাশিয়াম ও খাদ্যআঁশের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান রয়েছে। এসব উপাদান মা ও গর্ভের শিশুর সুস্থতার জন্য উপকারী। এছাড়া এতে থাকা খাদ্যআঁশ গর্ভাবস্থায় দেখা দেওয়া কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়তা করতে পারে।
গবেষণায় যা বলা হয়েছে:
British Journal of Nutrition-এ ২০০২ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, পুরোপুরি পাকা পেঁপে গর্ভাবস্থায় জরায়ুর ক্ষতিকর সংকোচন সৃষ্টি করে না এবং ভ্রূণের ওপরও নেতিবাচক প্রভাবের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে একই গবেষণায় দেখা গেছে, কাঁচা বা আধা-পাকা পেঁপের দুধের মতো আঠালো রসে থাকা কিছু উপাদান জরায়ুর সংকোচন বাড়াতে পারে। তাই গবেষকরা গর্ভবতী নারীদের কাঁচা পেঁপে এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
কেন কাঁচা পেঁপে এড়িয়ে চলা উচিত?
কাঁচা ও আধা-পাকা পেঁপেতে ল্যাটেক্স বা দুধের মতো আঠালো রস থাকে। এতে প্যাপেইনসহ কয়েকটি এনজাইম থাকে, যা অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে জরায়ুর সংকোচন উদ্দীপিত করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। যদিও মানুষের ক্ষেত্রে এ বিষয়ে প্রমাণ সীমিত, তবুও সতর্কতার অংশ হিসেবে চিকিৎসকেরা গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে, কাঁচা পেঁপে না খাওয়ার পরামর্শ দেন।
পাকা পেঁপে কেন তুলনামূলক নিরাপদ?
পেঁপে পুরোপুরি পাকলে এর আঠার পরিমাণ অনেক কমে যায়। ফলে পাকা পেঁপে কাঁচা পেঁপের তুলনায় অনেক বেশি নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়। তবে যেকোনো খাবারের মতো এটিও পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই উত্তম।
গর্ভাবস্থায় নতুন কোনো খাবার নিয়মিত খাদ্যতালিকায় যোগ করার আগে বা কোনো বিশেষ স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
আপনার মতামত লিখুন :