বাড়ছে শিং মাছ চাষে জনপ্রিয়তা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ৬:২৯ অপরাহ্ণ
বাড়ছে শিং মাছ চাষে জনপ্রিয়তা

দেশে দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে শিং মাছের বাণিজ্যিক চাষ। খেতে সুস্বাদু, সহজপাচ্য এবং উচ্চমানের আমিষসমৃদ্ধ হওয়ায় বাজারে এ মাছের চাহিদা বাড়ছে। পাশাপাশি স্বল্প জায়গায় অধিক ঘনত্বে চাষ করা সম্ভব হওয়ায় শিং মাছ চাষ এখন অনেকের কাছে লাভজনক পেশায় পরিণত হয়েছে।

মৎস্য চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাত্র ৫০ শতাংশ আয়তনের একটি পুকুরে বাণিজ্যিকভাবে দেশি শিং মাছ চাষ করে বছরে ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করা সম্ভব। মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, আধা নিবিড় পদ্ধতিতে শিং মাছ চাষ করলে চাষিরা তুলনামূলকভাবে বেশি লাভ করতে পারেন।

দেশে শিং মাছের পোনার অন্যতম বড় উৎস ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধলা এলাকা। এখান থেকে পোনা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চাষিরা পুকুর ও জলাশয়ে শিং মাছ চাষ করছেন। বর্তমানে কুমিল্লা, যশোর, নরসিংদী, নোয়াখালী ও সিলেটসহ বিভিন্ন জেলায় এ মাছের চাষ সম্প্রসারিত হচ্ছে।

ত্রিশালের ধলা গ্রামের অনেক চাষি শিং মাছ চাষ করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন। এ এলাকায় গড়ে উঠেছে ৩৫টি মৎস্য হ্যাচারি। মাছ চাষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে প্রায় ৫০০ পরিবার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষের। ধলার মাছ চাষি আজিম উদ্দিন জানান, বর্তমানে তার ৩০টি পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে। তিনি বলেন, একই পরিমাণ জায়গায় অন্য মাছের তুলনায় শিং মাছ চাষে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। ছোট পুকুরেও পরিকল্পিতভাবে চাষ করলে ভালো আয় করা সম্ভব।

চাষিদের তথ্য অনুযায়ী, ৫০ হাজার শিং মাছের পোনা মজুদ করলে সঠিক পরিচর্যায় ছয় মাসে প্রায় ৪৮ হাজার মাছ টিকে থাকে। এ সময়ে মাছের ওজন দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার ৯২০ কেজি। বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী এসব মাছ বিক্রি করে প্রায় ৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা আয় করা যায়। অন্যদিকে ছয় মাসে খাবার, শ্রমিক ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ বাদ দিয়ে একজন চাষি ৫০ হাজার শিং মাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত লাভ করতে পারেন। নিয়মিত চাষ করলে বছরে এ আয় আরও বাড়ানো সম্ভব।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এইচ এম কোহিনুর বলেন, শিং মাছ অত্যন্ত জনপ্রিয় একটি মাছ। এতে তেলের পরিমাণ কম এবং সহজপাচ্য উচ্চমানের আমিষ থাকায় শিশু, বয়স্ক ও রোগীদের কাছে এ মাছের চাহিদা বেশি।

তিনি জানান, শিং মাছের নিবিড় চাষের জন্য ২০ থেকে ৬০ শতাংশ আয়তনের ছায়াযুক্ত পুকুর নির্বাচন করা ভালো। নিয়মিত বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, উন্নতমানের পোনা, সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে অল্প সময়েই ভালো উৎপাদন পাওয়া সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের পতিত জলাশয় ও অব্যবহৃত জমি কাজে লাগিয়ে পরিকল্পিতভাবে শিং মাছ চাষ বাড়ানো গেলে একদিকে যেমন বেকারত্ব কমবে, অন্যদিকে দেশের মৎস্য উৎপাদন ও অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।