
মাদরাসায় বিরোধে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় নিজের বাসভবনে হামলা ও ভাঙচুরের পর ফেসবুক লাইভে এসে ক্ষমা চেয়েছেন যশোর-৪ আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য (এমপি) গোলাম রসুল। এ সময় তিনি নিজের মেয়েকে মানসিক রোগী দাবি করে উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে যশোর শহরের নীলগঞ্জ এলাকায় এমপি গোলাম রসুলের বাসভবনে হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদরাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সঙ্গে বিরোধের জেরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তার বাসভবনে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেন।
ঘটনার পর ফেসবুক লাইভে এসে এমপি গোলাম রসুল বলেন, তিনি ও তার পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। একই সঙ্গে তিনি ঘটনার জন্য ক্ষমা চান। তিনি বলেন, তার মেয়ে অনন্যা মানসিক সমস্যায় ভুগছেন এবং তাকে ভারতের হায়দরাবাদসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির জন্য তিনি মর্মাহত এবং এই ভুলের জন্য ক্ষমাপ্রার্থী।
তিনি আরও বলেন, “আমরা সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে চাই। এলাকার মানুষের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চাই।” এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান বলেন, পুলিশ সংসদ সদস্য ও তার পরিবারের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমপি কী বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি তার ব্যক্তিগত বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এমপি গোলাম রসুলের বাসভবনের সামনে আল মাদ্রাসাতুশ শারইয়াহ ও একটি মসজিদ রয়েছে। ওই মাদরাসায় যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এমপির পরিবার ও মাদরাসার শিক্ষার্থী-শিক্ষকদের মধ্যে বিরোধ চলছিল। স্থানীয়দের দাবি, সোমবার (২৭ জুলাই) এমপির মেয়ে অনন্যা মাদরাসার কয়েকজন শিক্ষার্থীকে ভয়ভীতি দেখান। বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশের মধ্যস্থতায় তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা হয়। পরে মঙ্গলবার সকালে গোলাম রসুল ও তার মেয়ে মাদরাসায় গিয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
এ সময় রেকসোনা নামে এক স্থানীয় নারী আহত হন এবং পরে নাসির উদ্দিন নামে এক অভিভাবকের সঙ্গেও অনন্যার বিরোধ হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে এমপির বাসভবনে হামলা চালান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সংসদ সদস্য ও তার মেয়ে বাসভবনের মূল ফটক বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান নেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
আপনার মতামত লিখুন :