আত্রাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত, ত্রিপলের নিচে চলছে পাঠদান


নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি, আব্দুল মজিদ মল্লিক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৬, ২০২৬, ৪:২৭ অপরাহ্ণ
আত্রাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয় ভবন পরিত্যক্ত, ত্রিপলের নিচে চলছে পাঠদান

নওগাঁর আত্রাই উপজেলার বৈঠাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। নিরাপত্তার কারণে ভবনের শ্রেণিকক্ষ ব্যবহার বন্ধ করে বর্তমানে ত্রিপল টাঙিয়ে খোলা আকাশের নিচে চলছে পাঠদান কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা পরিবেশ।

বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষ সংকট থাকায় শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনের একটি অংশে অফিস কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এতে তাদেরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

জানা গেছে, ১৯৬২ সালে উপজেলার বিশা ইউনিয়নের বৈঠাখালী গ্রামে মনোরম পরিবেশে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে ১৯৯৪ সালে সরকারিভাবে চার কক্ষবিশিষ্ট একটি একতলা ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ১৪৫ জন শিক্ষার্থী, পাঁচজন শিক্ষক ও একজন নৈশপ্রহরী রয়েছেন।

চলতি বছরের ২৩ জুন ক্লাস চলাকালে তৃতীয় শ্রেণির কক্ষের বিমের অংশ ভেঙে দুই শিক্ষার্থী আহত হয়। পরে প্রধান শিক্ষক তাদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। এরপর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

অভিভাবক খলিলুর রহমান বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে প্রতিনিয়ত দুশ্চিন্তায় থাকতে হচ্ছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ অথবা অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষ তৈরির দাবি জানান তিনি।

শিক্ষার্থী রবিন ও খুশি জানায়, ত্রিপল টাঙিয়ে ক্লাস করতে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বৃষ্টি হলে বই-খাতা ও পোশাক ভিজে যায়, আবার রোদে প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনা করা কষ্টকর হয়ে পড়ে।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমৃত কুমার সরকার বলেন, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শ অনুযায়ী ত্রিপল টাঙিয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষকদের বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে বসতে হচ্ছে। তিনি দ্রুত চার কক্ষবিশিষ্ট টিনশেড নির্মাণ এবং পুরোনো ভবন অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান।

আত্রাই উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাযহারুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জানার পর তিনি বিদ্যালয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন এবং পরিত্যক্ত ভবনে শ্রেণি কার্যক্রম না চালানোর জন্য প্রধান শিক্ষককে নির্দেশনা দিয়েছেন। সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনিরুজ্জামান জানান, বিষয়টি জানার পর প্রাথমিকভাবে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।