নারী আইনজীবীর মাথা ফাটানো সেই বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ২৩, ২০২৬, ৬:৩৮ অপরাহ্ণ
নারী আইনজীবীর মাথা ফাটানো সেই বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

গোপালগঞ্জের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকাজ চলাকালে পেপারওয়েট ছুড়ে এক নারী শিক্ষানবিশ আইনজীবীর মাথা ফাটানোর ঘটনায় বিচারক মো. সুজন মিয়াকে প্রত্যাহার করেছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) আইন ও বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের সদস্য মো. সুজন মিয়াকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ২৩ জুলাই অপরাহ্নে বর্তমান পদের দায়িত্বভার দপ্তর প্রধান কর্তৃক মনোনীত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করে অবিলম্বে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে বিচারক মো. সুজন মিয়ার প্রত্যাহার ও শাস্তির দাবিতে গোপালগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের সামনে জড়ো হন আইনজীবীরা। পরে তারা একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়।

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার (২২ জুলাই) গোপালগঞ্জ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ। ওই দিন বিচারক মো. সুজন মিয়ার আদালতে বিচার কার্যক্রম চলছিল। আদালত কক্ষের পেছনের দিকে আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীদের কথাবার্তায় বিচারকাজে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

বিচারক কয়েকবার সবাইকে নীরব থাকার নির্দেশ দিলেও কথাবার্তা অব্যাহত থাকায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। একপর্যায়ে তিনি আদালতের টেবিলে থাকা কাচের পেপারওয়েট ছুড়ে মারেন। এতে শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী সাবিহা সুলতানার মাথায় আঘাত লাগে এবং তার কপাল ফেটে রক্ত বের হয়।

পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। জানা গেছে, সাবিহা সুলতানা সিনিয়র আইনজীবী এম এম জুলকদর রহমানের অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছেন। এ ঘটনায় আইনজীবীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক মো. সুজন মিয়াকে প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।