হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ


অনলাইন ডেস্ক প্রকাশের সময় : জুলাই ১৯, ২০২৬, ১১:৫৭ পূর্বাহ্ণ
হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বাংলা সাহিত্যের জনপ্রিয়তম কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ (১৯ জুলাই)। ২০১২ সালের এই দিনে যুক্তরাষ্ট্রে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বাংলা সাহিত্যের এই কালজয়ী লেখক। দীর্ঘ ১৪ বছর পরও তার সৃষ্ট উপন্যাস, নাটক, চলচ্চিত্র ও অমর চরিত্রগুলো পাঠক-দর্শকের হৃদয়ে সমানভাবে জনপ্রিয় হয়ে আছে।

১৯৪৮ সালের ১৩ নভেম্বর নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার কুতুবপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হুমায়ূন আহমেদ। জন্মের পর তার নাম রাখা হয়েছিল শামসুর রহমান। ছোটবেলায় তার ডাকনাম ছিল কাজল। পরবর্তীতে তিনি নিজেই নিজের নাম পরিবর্তন করে রাখেন হুমায়ূন আহমেদ।

লেখালেখির অনুপ্রেরণা তিনি পেয়েছিলেন পরিবার থেকেই। তার বাবা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমদ ছিলেন একজন পুলিশ কর্মকর্তা ও লেখক। মুক্তিযুদ্ধের সময় পিরোজপুরে দায়িত্ব পালনকালে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে তিনি শহীদ হন। তার লেখা ‘দ্বীপ নেভা যার ঘরে’ বইটি প্রকাশিত হয়েছিল। মা আয়েশা ফয়েজও ‘জীবন যে রকম’ নামে আত্মজীবনী লিখেছেন।

হুমায়ূন আহমেদের ছোট ভাই মুহম্মদ জাফর ইকবাল দেশের খ্যাতিমান বিজ্ঞান লেখক ও কথাসাহিত্যিক। আরেক ভাই আহসান হাবীব একজন জনপ্রিয় রম্যলেখক ও কার্টুনিস্ট। কর্মজীবনে হুমায়ূন আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তবে সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে পূর্ণ মনোযোগ দিতে একসময় তিনি অধ্যাপনা ছেড়ে দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি সেনাদের হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হলেও ভাগ্যক্রমে প্রাণে বেঁচে যান।

১৯৭২ সালে প্রকাশিত তার প্রথম উপন্যাস ‘নন্দিত নরকে’ বাংলা সাহিত্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে। এরপর তিনি একের পর এক জনপ্রিয় সৃষ্টি উপহার দেন। তার উল্লেখযোগ্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে— ‘শঙ্খনীল কারাগার’, ‘জোছনা ও জননীর গল্প’, ‘মধ্যাহ্ন’, ‘দেয়াল’, ‘মাতাল হাওয়া’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ও ‘এইসব দিনরাত্রি’।

সাহিত্যের পাশাপাশি চলচ্চিত্র নির্মাণেও তিনি সফল ছিলেন। তার নির্মিত ‘আগুনের পরশমণি’, ‘শ্যামল ছায়া’, ‘দুই দুয়ারী’, ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ ও ‘ঘেঁটুপুত্র কমলা’ দর্শকদের কাছে ব্যাপক প্রশংসা পায়। তার সৃষ্ট জনপ্রিয় চরিত্র হিমু, মিসির আলী ও শুভ্র আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে বিশেষ আকর্ষণের নাম। টেলিভিশন নাটকেও তিনি নতুন ধারা সৃষ্টি করেন।

বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে হুমায়ূন আহমেদ ১৯৯৪ সালে একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কারসহ বহু সম্মাননা অর্জন করেন। তার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আজ নুহাশপল্লীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা নানা স্মরণ কর্মসূচির আয়োজন করেছেন। সৃষ্টির মধ্য দিয়ে হুমায়ূন আহমেদ বাংলা সাহিত্যপ্রেমীদের কাছে চিরকাল বেঁচে থাকবেন।